জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই বিএনপির মূল লক্ষ্য: জয়নুল আবদিন ফারুক
জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তাদের দল নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণের শান্তি, সার্বিক উন্নয়ন এবং সমাজে স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও মতামত প্রকাশের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই বর্তমানে বিএনপি-র মূল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও মূল নেতৃত্ব
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়নুল আবদিন ফারুক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে যখন পুরো জাতি চরম সংকটময় ও দিশাহারা মুহূর্ত পার করছিল, ঠিক তখনই জিয়াউর রহমান সাহসিকতার সঙ্গে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।” তার সেই ঐতিহাসিক আহ্বানে সাড়া দিয়ে তৎকালীন দেশের সকল স্তরের আপামর জনসাধারণ মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ফারুক স্পষ্ট করে জানান যে, জিয়াউর রহমানের সততা ও আদর্শই তাকে আজীবন রাজনীতিতে টিকে থাকতে এবং দেশের জন্য কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমানের নির্মম শাহাদাতের পর বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত শক্ত হাতে দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। নানা ধরনের তীব্র প্রতিকূলতা, ষড়যন্ত্রী পরিবেশ এবং রাজনৈতিক বাধা সত্ত্বেও তিনি সর্বদা গণতন্ত্রের পক্ষে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। জনগণের অফুরন্ত ভালোবাসা ও সমর্থনের কারণেই তিনি ৩ বার দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হতে পেরেছিলেন।
রাজনৈতিক নিপীড়ন ও অধিকার আদায়ের সংগ্রাম
বক্তব্যে দেশের বর্তমান ও অতীত রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে সুপরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্র চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। বিরোধী দলের অগণিত নেতাকর্মীদের ওপর সীমাহীন নির্যাতন ও জেল-জুলুম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর প্রসঙ্গে তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে তুলে ধরেন যে, মূলধারার গণতন্ত্র ও জনগণের মৌলিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত থাকার কারণেই তাকে বলপূর্বক গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জনস্বার্থ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা
তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, দেশের সকল সংকটে বিএনপি সর্বদা সাধারণ মানুষের পাশেই দাঁড়িয়েছে। নজিরবিহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, সীমান্তে অহেতুক হত্যাকাণ্ড বন্ধ এবং দেশের ন্যায্য পানির অধিকার আদায়সহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে দলটি সর্বদাই সোচ্চার ও আপসহীন ভূমিকা পালন করেছে। অগণিত আন্দোলন-সংগ্রাম, নেতাদের দীর্ঘ জেল-জুলুম সহ্য করা এবং নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই দল আজকের এই সুদৃঢ় রাজনৈতিক অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছে।
পরিশেষে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকবে এবং আর কখনো কোনো অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতি কিংবা স্বৈরাচারী পরিবেশের সৃষ্টি হবে না। উক্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় মৎস্যজীবী দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #বিএনপি #সংবাদ