জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধে ব্যর্থতার দায় অন্তর্বর্তী সরকারের: ছাত্র অধিকার পরিষদ
আগারগাঁও এলাকায় অবস্থিত নির্বাচন কমিশন ভবনে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে এক জরুরি বৈঠক শেষে ছাত্র অধিকার পরিষদ-এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বেশ কিছু কঠোর ও তাৎপর্যপূর্ণ দাবি তুলে ধরেছেন। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী দল জাতীয় পার্টি-কে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করতে না পারার পূর্ণ দায়ভার বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপরই বর্তায়। একই সাথে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কিত এই দলটির প্রতি নির্বাচন কমিশনের চরম ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও উদার মনোভাব দেখে ছাত্র সমাজ গভীরভাবে বিস্মিত এবং ক্ষুব্ধ।
নির্বাচন কমিশনের অবস্থান এবং ছাত্র নেতাদের আশঙ্কার চিত্র
সংগঠনটির সভাপতি নাজমুল হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের জানান, “যেসব দল ও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের এখন বিভিন্ন মামলায় কারাগারে বন্দি থাকার কথা ছিল, তারা অত্যন্ত প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং স্বাধীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের সরাসরি বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কথা বলছে।” তারা প্রতিনিয়ত দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে বিনষ্ট করতে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ছাত্র নেতারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যারা বিগত দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক ও ভোটাধিকার হরণ করেছে এবং আওয়ামী লীগ-কে একটি স্বৈরাচারী ও নিপীড়ক শক্তিতে রূপান্তরে পেছন থেকে কলকাঠি নেড়েছে, সেই দলটির প্রতি কমিশনের এই কোমল আচরণ সাধারণ মানুষের মনে চরম আতঙ্ক ও গভীর ধোঁয়াশার জন্ম দিচ্ছে।
এর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক নানা সিদ্ধান্ত ও গৃহীত পদক্ষেপ নিয়েও গম্ভীর শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযোগ তোলা হয় যে কমিশন অসাধু অন্তত ৪৫ জন চিহ্নিত ঋণখেলাপিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য বৈধতা দান করেছে এবং দ্বৈত নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগসহ রাজনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। বহুল পরিচিত এবং বিতর্কিত জাতীয় পার্টি-কে আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ সুগম করে দেওয়ায় ছাত্রসমাজ তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্র নেতৃবৃন্দ আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে উক্ত রাজনৈতিক দলকে সম্পূর্ণরূপে অযোগ্য ঘোষণা করা এবং তাদের দলীয় নিবন্ধন অবিলম্বে বাতিল করার আনুষ্ঠানিক ও জোরালো দাবি জানিয়ে কমিশনে একটি লিখিত স্মারকলিপি পেশ করেছেন।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুরক্ষা ও নিবন্ধনের অযোগ্যতার দাবি
স্মারকলিপি প্রদানকালে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সানাউল্লাহ হক অভিযোগ করেন যে উক্ত দলটি নির্বাচনী ব্যবস্থায় একটি ক্ষতিকারক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ভূমিকা গ্রহণ করছে। তারা বিভিন্ন ইস্যুতে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই ধরনের কর্মকাণ্ড রোধে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর বা দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় এসব অপশক্তিকে অবিলম্বে নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করার বিকল্প নেই বলে ছাত্র নেতারা তাদের বক্তব্যে বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন।
তারা জোর দিয়ে বলেন যে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত এই নতুন বাংলাদেশে কোনো ফ্যাসিবাদের সহযোগী শক্তিকে পুনর্বাসিত হতে দেওয়া হবে না। যদি নির্বাচন কমিশন তাদের নমনীয় নীতি পরিহার করে বিতর্কিত দলটির নিবন্ধন বাতিল না করে, তবে আগামী দিনে দেশের সচেতন ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে আরও কঠোর ও ব্যাপ্ত রাজপথের আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থেই নির্বাচন কমিশনকে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন #সংবাদ