সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার গুরুত্ব তুলে ধরলেন জামায়াত আমির
মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এক শিক্ষাশিবিরের সমাপনী দিনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলের শৃঙ্খলা, নৈতিকতা এবং জবাবদিহিতার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক শৃঙ্খলা একটি অত্যন্ত বড় নেয়ামত, যা অন্য কোনো রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক দলে সচরাচর দেখা যায় না। প্রতিটি নেতাকর্মীকে তাদের কাজের মাধ্যমে সততা, শৃঙ্খলা ও আখিরাতের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। বক্তব্যের শুরুতে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, একজন মানুষের দীর্ঘজীবনের সকল সুনাম ও কষ্টার্জিত অর্জন সামান্যতম ভুল বা একটি ছোট দুর্ঘটনার কারণে মুহূর্তের মধ্যেই ম্লান হয়ে যেতে পারে। তাই সংগঠনের প্রতি স্তরের দায়িত্বশীলদের সর্বদা সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, ত্যাগ ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ
তিনি উল্লেখ করেন যে, এই মহাদেশে ঐতিহাসিক আন্দোলনগুলোর অন্যতম নেতৃত্ব দিয়েছেন মুসলমানরা, যার ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছিল। জামায়াতে ইসলামী-র দীর্ঘ ৮৬ বছরের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, এই দীর্ঘ অভিযাত্রায় অসংখ্য নেকবান্দা যুক্ত ছিলেন যাদের ত্যাগ, আত্মোৎসর্গ ও কোরবানি দলটিকে আজকের স্থানে নিয়ে এসেছে। অনেক নেতাকর্মী দেশের ও ইসলামের সেবায় শহীদ হয়েছেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে আশা প্রকাশ করেন যে, আল্লাহর পথে তাদের এই অসীম ত্যাগ ও কোরবানির ফল জাতি অবশ্যই লাভ করবে, ইনশাআল্লাহ। তবে এর জন্য শর্ত হলো আল্লাহকে ডাকার ক্ষেত্রে অন্তরে পূর্ণ এক্বিন ও ইখলাস বজায় রাখা, কারণ যেখানে বিশ্বাস ও আন্তরিকতা এক হয় সেখানে কোনো দূরত্ব থাকে না।
উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, চারটি দেশের মধ্যে তাদের এই সংগঠনকেই সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা ও কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিবেশী ভারতে এবং বিশেষ করে কাশ্মীরে মুসলমানরা সর্বদা জানমাল, সম্মান ও নিরাপত্তার তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছেন এবং প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে চলেছেন। একই সাথে তিনি জানান, বর্তমান সময়ে দলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও স্থানীয় সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করা।
সংসদীয় রাজনীতি, আত্মশুদ্ধি ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা
জাতীয় রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমরা সংরক্ষিত নারী আসনসহ ৯০টি আসন নিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছি।” দেশের সাধারণ মানুষ সর্বদাই একটি সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত দল ও সরকার প্রত্যাশা করে, যারা সমাজ থেকে অন্যায় ও দুর্নীতি দূর করতে পারবে। জামায়াত নিজেদের এই দায়িত্ব পালনে সবচেয়ে উপযুক্ত বলে মনে করে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, রাজনীতির মূল লক্ষ্য যদি কেবল ক্ষমতায় যাওয়া হয় তবে তার সীমানা কেবল এই পৃথিবী পর্যন্তই সীমাবদ্ধ; কিন্তু লক্ষ্য যদি হয় আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, তবে তার ব্যাপ্তি আখিরাত পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। তাই সমাজ ও দেশকে পরিচালনা করার আগে নিজেদের অন্তরের পশুত্ব ও অন্যায় মানসিকতাকে দমনের প্রতি তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
স্থানীয় নির্বাচন ও প্রার্থী বাছাই প্রসঙ্গে তিনি পরামর্শ দেন যে, সমাজ থেকে সবচেয়ে সৎ ও যোগ্য মানুষকে বেছে নিতে হবে। প্রার্থীর মানবিক যোগ্যতা, হালাল উপার্জন এবং সমাজে সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা থাকাকে প্রাথমিক শর্ত হিসেবে দেখতে হবে। নারী-পুরুষের যৌথ অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি মা-বোনদের সম্মান করা এবং দ্বীনের কাজে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #জামায়াত #সংবাদ