জামায়াত নেতাদের বক্তব্য তাদের ইমানি পরীক্ষায় ফেলবে: বিএনপি নেতা

ঢাকা-র প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপি-র স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কোনো আসন না দেওয়ার মতো অহংকার ও দম্ভমূলক মন্তব্য করা একেবারেই সমীচীন নয়। তিনি মনে করেন, এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য শেষ পর্যন্ত বক্তাদের ইমানি পরীক্ষাতেই ফেলে দিতে পারে। জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত ওই সভায় তিনি বক্তব্য রাখছিলেন।

রাজনৈতিক অহংকার ও নির্বাচনকেন্দ্রিক বাস্তবতা

তিনি বলেন, “আল্লাহ তাআলা কখনোই মানুষের কোনো অহংকার বা দম্ভ পছন্দ করেন না।” সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামী-র নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি উল্লেখ করেন, রাজধানীর কোনো আসন অন্য কাউকে না দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া চরম অহংকারের সামিল। দলীয় কর্মীদের রাজনৈতিক সাহস ও আশ্বাস দেওয়ার জন্য হয়তো তারা এ কথা বলছেন, কিন্তু বাস্তবে কোনো আসনের একমাত্র মালিক মহান আল্লাহ। দেশের জনগণই ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন, কারণ রাজনৈতিক ময়দানে নির্বাচন একটি অনিশ্চিত বিষয়।

বিএনপির এই প্রবীণ রাজনীতিক স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে তাদের দল রাজধানীর প্রায় প্রতিটি আসনে জয়লাভ করেছিল। তা সত্ত্বেও তারা কখনো দাবি করেননি যে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল আর সুযোগ পাবে না। যে কেউ নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জয়ী হতে পারে। অথচ অতীতে কখনোই ঢাকা শহরের আশেপাশে বা মহানগরীতে কোনো আসন পাননি এমন রাজনৈতিক দলের নেতারা এখন সব আসন পাওয়ার বড় বড় দাবি করছেন, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

দ্বৈত নাগরিকত্ব ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা

নির্বাচন কমিশনের নমনীয় ও দুর্বল ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে তিনি দেশের সংবিধান ও আরপিও আইনের নানা ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জন্মসূত্রে কোনো নাগরিক যদি অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করার পর তা যথানিয়মে পরিত্যাগ করেন, তবে তার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে কোনো আইনি বাধা থাকে না। বিদেশ সরকার কর্তৃক তা আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হলো কি হলো না, সে বিষয়ে আমাদের সংবিধানে অতিরিক্ত শর্ত দেওয়া হয়নি। একইভাবে নির্বাচন কমিশনের হলফনামায় কেবল দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন জমা দেওয়ার তথ্যই জানতে চাওয়া হয়েছে।

পোস্টাল ব্যালটের দলীয় প্রতীক বিন্যাস নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপি নেতা জানান, ব্যালটে ধানের শীষ প্রতীকটিকে এমনভাবে ভাজের ভেতরে রাখা হয়েছে যা সাধারণ ভোটারের জন্য অত্যন্ত অসুবিধাজনক। নির্বাচন কমিশন এটিকে নিজস্ব কার্যালয়ের কর্মচারীদের ভুল হিসেবে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে।

দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলা

দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি জাতীয় দূর্যোগ ও সংকটকালে জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্ব জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে। জনগণ সর্বদা এই নেতৃত্বের ওপর পরম আস্থা রেখেছে।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন #সংবাদ