বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন সব ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এক আপসহীন, নির্ভীক যোদ্ধা। তিনি সব আগ্রাসী শক্তির চাপ অগ্রাহ্য করে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেন এবং দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক জোট ‘সার্ক’ গঠনের মতো অবিস্মরণীয় অবদানের কথাও বলেছেন।

মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (১৮ জানুয়ারি) দেওয়া এক বাণীতে। বাণীটি বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন পাঠান। মির্জা ফখরুল সেখানে মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক হিসেবে শহীদ জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

শহীদ জিয়ার নেতৃত্ব ও মুক্তিযুদ্ধ

বাণীতে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাংলাদেশের জনগণের ওপর আক্রমণ করলে জিয়াউর রহমান একজন সাহসী প্রতিরোধ গড়ে তোলেন; সঙ্গে তিনি পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করেন। ২৬ মার্চ তিনি চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং সেই ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা ঘটেন।

ফখরুল বর্ণনা করেছেন যে সেদিন থেকেই দেশের মানুষ তাঁর নেতৃত্বের প্রতিভা ও সাহসের সাক্ষী হয়। স্বাধীনতার পরে দেশ যখন স্বৈরাচারী শাসনের ক্রান্তিকালে পড়ে, তখন তিনি জনগণের নেতৃত্বভার গ্রহণ করেন বলে বাণীতে উল্লেখ রয়েছে।

নীতি, সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড

বাণীতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণের পরে জিয়াউর রহমান বিচার বিভাগ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। তিনি উৎপাদনের রাজনীতির উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং দেশে কৃষি বিপ্লব, গণশিক্ষা ও শিল্প উৎপাদনে ত্বরান্বিত কর্মসূচি চালুর বিষয়ে পদক্ষেপ নেন।

একই সঙ্গে সেচ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে স্বেচ্ছাশ্রম ও সরকারি সহায়তার সমন্বয়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ খাল খনন ও পুনঃখনন করা হয় বলে বাণীতে উল্লেখ আছে।

শিক্ষা ও গ্রামীণ সেবা

বাণীতে বলা হয়েছে, গণশিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় অতি অল্প সময়ে ৪০ লাখ মানুষকে অক্ষর দান করা হয়। গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন করে গ্রামাঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয় এবং পল্লী চিকিৎসক ব্যবস্থা প্রবর্তন করে ২৭ হাজার ৫০০ পল্লী চিকিৎসক নিয়োগপ্রাপ্ত হন, ফলে গ্রামীণ জনগণের চিকিৎসাসেবা বাড়ে।

শহীদত্ব, সমালোচনা ও আহ্বান

বাণীতে উল্লেখ করা হয়েছে যে জিয়াকে দেশের বিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা নির্মমভাবে হত্যা করে এবং তাঁর আত্মত্যাগের পর জনগণের মধ্যে দেশবিরোধী চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে গণঐক্য গড়ে ওঠে। মির্জা ফখরুল জিয়ার অসাধারণ দেশপ্রেম, সাহসিকতা, সততা ও সহজ-সরল ব্যক্তিত্বের কথা স্মরণ করে তাঁর অবদানকে দেশের জন্য অসামান্য বলে আখ্যা দিয়েছেন।

ফখরুল তাঁর বাণীতে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা, গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার, মানবিক সাম্য ও ন্যায়বিচার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মৌলিক মানবাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য দেশবাসীর প্রতি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বাণীতে উপস্থাপিত এসব বিবরণে শহীদ জিয়াউর রহমানের ইতিহাসসংবলিত কর্মকাণ্ড, নীতিগত সিদ্ধান্ত ও সামাজিক উদ্যোগকে কেন্দ্র করে স্মরণ ও মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আহ্বান দিয়ে বাণীটি শেষ হয়েছে।