মহান স্বাধীনতা দিবসে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ঢাকা-র চন্দ্রিমা উদ্যান সংলগ্ন জিয়া উদ্যানে অবস্থিত মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনর্বক্তা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা নিবেদন করেছেন বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের অগণিত বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ নেতাদের রুহের মাগফিরাত ও দেশ-জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতাদের উপস্থিতি ও পুষ্পস্তবক অর্পণ
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) প্র his সকালে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি-র যৌথ উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। রাজধানী ঢাকা-র বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড এবং ইউনিটের হাজার হাজার নেতাকর্মী এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণকালে উপস্থিত নেতাকর্মীরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জাতীয় মর্যাদা রক্ষার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এসময় উপস্থিত সিনিয়র নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি-র আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু এবং সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন। একইসাথে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি-র সদস্যসচিব মোস্তফা জামান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে সিনিয়র নেতা ফরহাদ হোসেন, আকতার হোসেন, আ ন ম সাইফুল ইসলাম, মোস্তফিজুর রহমান সেগুন ও হারুন উন রশিদসহ মহানগরের শীর্ষস্থানীয় ও তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থেকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ কর্মসূচিকে এক বিশাল রাজনৈতিক সমাবেশে পরিণত করেন।
নেতৃবৃন্দের বক্তব্য, ইতিহাস স্মরণ ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপস্থিত দলীয় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে নেতৃবৃন্দ সংক্ষেপে বক্তব্য প্রদান করেন। এসময় বিএনপি নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনবদ্য ভূমিকা ও সাহসী নেতৃত্বের কথা। তারা বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কেবল স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণাই প্রদান করেননি, বরং রণাঙ্গনে সরাসরি যুদ্ধ করে এই দেশকে স্বাধীন করেছিলেন।” পরবর্তীতে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
একইভাবে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন মনোভাব ও অপরিসীম ত্যাগের কথা স্মরণ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের মানুষের ভোটাধিকার, মানবাধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় আজীবন লড়াই সংগ্রাম করে গেছেন।” শত প্রতিকূলতা ও রাজপথের বাধা কাটিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের বাকস্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য তিনি কখনোই আপস করেননি। তার এই অনন্য ত্যাগ দেশের সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী ও জনগণের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে বলে নেতারা মত প্রকাশ করেন।
গণতন্ত্র রক্ষা, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা
মহান স্বাধীনতা দিবসের এই ঐতিহাসিক ক্ষণে নেতৃবৃন্দ দেশের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। তারা স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেন যে, স্বাধীনতার মূল চেতনা ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠন করা। দেশের মানুষের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকারসমূহ ফিরিয়ে আনাই এখন সময়ের প্রধান দাবি। জিয়া উদ্যানে সমবেত নেতাকর্মীরা দেশের প্রতিটি প্রান্তে জাতীয়তাবাদী চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার দৃঢ় শপথ গ্রহণ করেন। সভা শেষে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ কর্মসূচির সফল সমাপ্তি ঘটে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #বিএনপি #স্বাধীনতা_দিবস