জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্রে ফেরার নতুন দিগন্ত: মির্জা ফখরুল
ঢাকায় মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই দেশে পুনরায় গণতন্ত্রের ধারায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ ও নতুন পথ তৈরি হয়েছে। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা ব্যক্ত করেন।
ঐতিহাসিক ত্যাগ ও খালেদা জিয়ার সংগ্রামের স্মৃতিচারণ
মির্জা ফখরুল বক্তব্যে শুরুতেই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম প্রবীণ ব্যক্তিত্ব বেগম খালেদা জিয়াকে। তিনি বলেন, “আজকের এই স্মরণীয় দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি বাংলাদেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশ-এর সর্বস্তরের মানুষের অধিকার রক্ষা, স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনপ্রতিষ্ঠার জন্য নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। দলের পক্ষ থেকে তার এই অসামান্য ত্যাগের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান ও গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।
ফ্যাসিবাদী শাসন, নিপীড়ন ও দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস
দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন ও ঐতিহাসিক এক প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হচ্ছে। বিগত দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর ধরে দেশের জনগণ চরম শাসনের শিকার ছিল, যার ফলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল এবং জাতীয় স্বাধীনতা বিপন্ন হয়ে পড়েছিল। এই অন্ধকার সময়ে বিএনপি সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কঠিন সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছিল।
তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে উল্লেখ করেন যে, এই দীর্ঘ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আন্দোলনের পথচলায় প্রায় ২০ হাজার মুক্তিকামী মানুষ শহীদ হন এবং অন্তত ১৭০০ নেতাকর্মী গুমের শিকার হন। এই ভয়াবহ দমন-পীড়ন ও নির্যাতন উপেক্ষা করেই এদেশের বীর জনগণ নিজেদের অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়ে গেছে, যার চূড়ান্ত রূপ আমরা জুলাই অভ্যুত্থানে দেখেছি।
নতুন নেতৃত্ব, রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও আগামী দিনের প্রত্যাশা
সংগঠন ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি দলীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। দীর্ঘ ১৫ বছর নির্বাসিত থেকেও তিনি আন্দোলন পরিচালনা করেছেন। বর্তমানে নির্বাচন এবং সরকার গঠনের পর সম্পূর্ণ আধুনিক ও নতুন চিন্তাভাবনা নিয়ে তিনি দেশকে পুনর্গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন। মাত্র এক মাসের মধ্যেই তার গতিশীল নেতৃত্বে দেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষের কল্যাণে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি, কৃষকদের সুদ মওকুফ এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও পাদ্রীদের ভাতা প্রদানের মতো যুগান্তকারী সব নতুন কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। দেশের আপামর জনসাধারণ তারেক রহমানের প্রতি আস্থা ও গভীর বিশ্বাস রাখছে। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ ও সুখী রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #গণতন্ত্র #স্বাধীনতা_দিবস