জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিং নিয়ে জামায়াত আমিরের ক্ষোভ

মগবাজারে আয়োজিত এক সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র আমির এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই, অথচ প্রতিদিন কেন জনগণকে ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা সহ্য করতে হচ্ছে? এই অসঙ্গতিপূর্ণ পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরম দুর্ভোগের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

সম্মিলিত উদ্যোগের অভাব ও সরকারের ব্যর্থতা

জামায়াতে ইসলামী-র ‘জেলা আমির সম্মেলন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক সংকট ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশজুড়ে এক ধরনের জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এ ধরনের জাতীয় সংকট এককভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তাই সংসদ ও সংসদের বাইরে সর্বস্তরের রাজনৈতিক দল এবং জনগণকে সাথে নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সরকারের পক্ষ থেকে সে ধরনের কোনো জাতীয় ঐক্য বা উদ্যোগের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

তিনি সরকারের দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, একদল দায়িত্বশীল প্রতিনিধি দাবি করছেন যে দেশে তেলের সংকট নেই এবং প্রচুর মজুত রয়েছে। আবার অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে যে অসাধু চক্র তেলের ড্রাম মজুত করে বেআইনিভাবে পাচার ও বিক্রি করছে। জনগণ এখন অত্যন্ত সচেতন, তাই তারা ভালো করেই জানে কোথায় তেলের অনিয়ম হচ্ছে। এ ধরনের ” বিভ্রান্তিকর বক্তব্য সরকারের চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতা নির্দেশ করে “ এবং এতে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত জনগণের ভোগান্তি শতগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

নতুন ফ্যাসিবাদ ও বিচার ব্যবস্থার সংকোচন

রাজনীতি ও বিচার ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন। শফিকুর রহমান স্মরণ করিয়ে দেন যে, যেদিন সাধারণ মানুষের গণভোটে প্রকাশ করা জনরায়কে অবমূল্যায়ন ও অস্বীকার করা হয়েছে, ঠিক সেদিন থেকেই দেশে এক নতুন ধরনের ফ্যাসিবাদের গোড়াপত্তন হয়েছে। তার মতে, অতীতে দেশবাসী যে ফ্যাসিবাদের রূপ দেখেছে, আগামী দিনের ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা তার চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ ও বিপজ্জনক রূপ ধারণ করবে।

উচ্চ আদালতে নিরপেক্ষতার অভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বডি গঠনের জন্য অধ্যাদেশ জারির কথা থাকলেও তা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আটকে দেওয়া হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিচার বিভাগে সরাসরি দলীয় প্রভাব বজায় রাখা। দলীয় ভিত্তিতে বিচারক নিয়োগ দেওয়ার ফলেই অতীতে নানা বিতর্কিত রাজনৈতিক চরিত্র তৈরি হয়েছে, যার খেসারত দেশের আপামর জনগণকে আজও দিতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান

ডা. শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে সরকারকে অবশ্যই বাস্তবমুখী এবং কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। জ্বালানি খাতের কালোবাজারি দূর করা না গেলে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ আরও পুঞ্জীভূত হবে। তিনি দ্রুত দেশের প্রতিটি এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার এবং জাতীয় স্বার্থে সকল রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে সংকট সমাধানে এগিয়ে আসার আকুল আহ্বান জানান।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #জ্বালানিসংকট #লোডশেডিং