ঢাকা-১৬ আসনে ভোট কেনার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান জামায়াত প্রার্থীর

ঢাকা-১৬ সংসদীয় আসনে electoral প্রচারণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বাদানুবাদ ও পাল্টা অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে। উক্ত আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমিনুল হক প্রতিপক্ষ প্রার্থী কর্নেল (অব.) মো. আব্দুল বাতেনের বিরুদ্ধে ভোটারদের টাকা দিয়ে প্রভাবিত করার গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত দাবি করে তা সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র প্রার্থী আব্দুল বাতেন। রাজধানী শহরের পল্লবী থানা এলাকায় আয়োজিত নির্বাচনি প্রচারণার পঞ্চম দিনে স্থানীয় সাধারণ জনগণের সঙ্গে সরাসরি গণসংযোগকালে তিনি সাংবাদিকদের কাছে নিজের স্পষ্ট বক্তব্য তুলে ধরেন।

অভিযোগের বিবরণ ও বিএনপি প্রার্থীর দাবি

এর আগে নির্বাচনের পঞ্চম দিনের সকালে মিরপুর-৬ এলাকায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চাল চালান ধানের শীষের প্রার্থী আমিনুল হক। সেখানে আয়োজিত এক গণসংযোগ কর্মসূচিতে তিনি প্রতিপক্ষ প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত প্রার্থীর কর্মীরা নির্বাচনি আচরণবিধি মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করে চলেছে। আমিনুল হক আরও দাবি করেন যে, রাতের অন্ধকারে নারীদের বোরকা পরিয়ে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে পাঠানো হচ্ছে। সেখান থেকে সাধারণ মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর এবং সচল মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে সেই সংগৃহীত নম্বরে বিকাশের মতো ডিজিটাল মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে বেআইনিভাবে অর্থ পাঠানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার মতে, নির্বাচনে অনুচিত সুবিধা লাভের উদ্দেশ্যে জামায়াত আগে থেকেই সরাসরি অর্থ দিয়ে ভোট ক্রয়ের নীতি গ্রহণ করেছে।

জামায়াত প্রার্থীর কড়া প্রতিবাদ ও আত্মপক্ষ সমর্থন

প্রতিপক্ষের এই কঠোর অভিযোগের প্রেক্ষিতে কর্নেল (অব.) মো. আব্দুল বাতেন অত্যন্ত কড়া ভাষায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, “আমাকে কোনো অসদুপায় অবলম্বন করে বা টাকা দিয়ে ভোট কিনতে হবে কেন? আমি একজন সুদীর্ঘ সময় রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকারী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। আমার বিরুদ্ধে আনা এই অপপ্রচার পুরোপুরি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।” তিনি আরও বলেন যে, এলাকার সাধারণ ভোটাররা চরম রাজনৈতিক পরিবর্তন চান এবং তারা যেকোনো মূল্যে একটি চাঁদাবাজমুক্ত, দখলদারিত্বমুক্ত ও ভয়হীন শান্তিময় সমাজ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।

সামাজিক ও সামাজিক দাওয়াতি কার্যক্রমের ব্যাখ্যা

ভোটারদের বাড়ি বাড়ি নারী কর্মীদের যাতায়াত সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আব্দুল বাতেন বলেন যে, তাদের নারী কর্মীরা কোনো নির্বাচনি অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত নন। তাদের সংগঠনের নারীরা সারাবছর জুড়েই স্বাভাবিক ও মানবিক দাওয়াতি কাজের অংশ হিসেবে মানুষের দ্বারে দ্বারে গমন করেন। এমনকি অতীতে কঠিন ও চরম স্বৈরাচারী শাসন আমলেও তারা সব ধরনের বাধা-বিপত্তি ও ভয়ভীতি উপেক্ষা করে নিরবচ্ছিন্নভাবে এই দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। বর্তমানেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই তারা মানুষের কাছে যাচ্ছেন। অত্যন্ত ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই স্বাভাবিক সামাজিক ও ধর্মীয় দাওয়াতি কাজকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে এবং অসত্য তথ্য ছড়িয়ে তাদের বদনাম করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

নির্বাচনি মাঠে এমন পাল্টাপাল্টি অভিযোগে ঢাকা-১৬ আসনের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্বাচনি কর্মকর্তাদের কঠোর নজরদারির আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ ভোটাররা।

#রাজনীতি #নির্বাচন #বাংলাদেশ #ঢাকা