ডিএসসিসি নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা নীলা ইসরাফিলের

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আসন্ন মেয়র নির্বাচনে লড়াই করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-র (এনসিপি) সাবেক নেত্রী নীলা ইসরাফিল। সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ছবি সম্বলিত একটি বিশেষ নির্বাচনী পোস্টার প্রকাশ করে তিনি নিজের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কথা দেশের সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন। তাঁর এই সাহসী আত্মপ্রকাশ স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে বেশ নতুন ও তাৎপর্যপূর্ণ এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তা ও অঙ্গীকার

ফেসবুকে শেয়ার করা নির্বাচনী বার্তায় তিনি অত্যন্ত আবেগঘন ভাষায় লেখেন, “সবার ভালোবাসা ও মহান অনুপ্রেরণায় আমি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, একটি পরিচ্ছন্ন, শতভাগ নিরাপদ ও আধুনিক বাসযোগ্য নগরী পাওয়া আমাদের প্রত্যেকের মৌলিক অধিকার। আমি আপনাদের সকলের অমূল্য দোয়া, আন্তরিক সাহায্য ও সর্বাত্মক সমর্থন একান্তভাবে কামনা করছি। সবাইকে অশেষ ধন্যবাদ।” তাঁর এই স্পষ্ট বার্তাটি অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং সর্বস্তরের সাধারণ নাগরিকদের প্রবল দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। তাঁর এই বার্তায় নগরীর বাসিন্দাদের সার্বিক উন্নয়ন ও অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক পটভূমি, জুলাই আন্দোলন ও দল ছাড়ার প্রেক্ষাপট

রাজনৈতিক সচেতন মহলে নীলা ইসরাফিল একজন সুপরিচিত ও প্রতিভাবান মুখ হিসেবে চিহ্নিত। গত বছরের ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনে তিনি অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন এবং রাজপথে সামনের সারিতে থেকে জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিয়মিত ভূমিকা রেখেছিলেন। ছাত্র-জনতার সেই ঐতিহাসিক আন্দোলনে তাঁর সাহসী অবস্থান সর্বমহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছিল। আন্দোলন পরবর্তী সময়ে উদীয়মান রাজনৈতিক শক্তিতে নিজের অবস্থান সুসংগঠিত করতে তিনি নবগঠিত দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-তে (এনসিপি) আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন এবং সেখানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে শুরু করেন।

দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও স্বতন্ত্র পথচলা

তবে এনসিপি-তে যোগদান করার কিছুদিন পর থেকেই দলটির অন্যতম শীর্ষ স্থানীয় নেতা সারোয়ার তুষারের সঙ্গে নীতিগত ও রাজনৈতিক নানা বিষয়ে তাঁর তীব্র মনোমালিন্য ও সংঘাত সৃষ্টি হয়। এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ক্রমেই ঘনীভূত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও কাজের স্বাধীনতা চরমভাবে ব্যাহত হলে তিনি দলটির পদ থেকে পদত্যাগ করার কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। পদত্যাগের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে তিনি আপস করতে প্রস্তুত নন। এরপর তিনি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বতন্ত্র ধারায় নিজের রাজনৈতিক পথচলা অব্যাহত রাখেন।

নগরবাসীর সেবা ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার নতুন স্বপ্ন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি এলাকার নাগরিকরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নাগরিক সুবিধাবঞ্চনা, বর্জ্য ব্যবস্থার বিপর্যয়, জলাবদ্ধতা ও তীব্র যানজটের ভোগান্তিতে ভুগছেন। নীলা ইসরাফিল তাঁর প্রাথমিক নির্বাচনী প্রচারণায় এই প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা স্থায়ী সমাধানের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রদান করছেন। তিনি মনে করেন, ঐতিহ্যবাহী ঢাকা শহরের প্রাচীন গৌরব ও সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে হলে একজন দক্ষ, দূরদর্শী, সাহসী ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ জনপ্রতিনিধি প্রয়োজন। তাঁর প্রার্থী হওয়ার খবর তরুণ প্রজন্ম এবং নারী ভোটারদের মাঝে ব্যাপক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সিটি করপোরেশন পরিচালনা করা সম্ভব হলে বাংলাদেশ-এর এই ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন শহরকে বিশ্বের দরবারে এক আধুনিক তিলোত্তমা নগরীতে রূপান্তরিত করা সম্ভব। আগামী দিনগুলোতে তিনি সর্বস্তরের সাধারণ জনগণের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে তাঁদের দোয়া ও সমর্থন অর্জন করার লক্ষ্য নিয়ে সমন্বিত কর্মসূচি তৈরি করছেন।

#রাজনীতি #ঢাকা #নির্বাচন #সংবাদ #ডিএসসিসি