ডিএসসিসি নির্বাচনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী সাদিক কায়েম: দলীয় সিদ্ধান্ত প্রকাশ
আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের অফিসিয়াল প্রার্থী হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি সাদিক কায়েমের নাম চূড়ান্ত করেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সম্মেলনে দলের রুকনদের প্রত্যক্ষ ভোটাভুটির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ডিএসসিসি এলাকার সামগ্রিক নেতৃত্ব প্রদান এবং তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
রুকনদের প্রত্যক্ষ ভোট ও মনোনয়ন প্রক্রিয়া
ঢাকা নগরীর কাকরাইল এলাকায় অবস্থিত ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের এক বিশাল থানা দায়িত্বশীল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে মহানগরীর বিভিন্ন অঞ্চলের দায়িত্বশীল ও দলীয় রুকনগণ উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী নির্বাচন করা। সেখানে রুকনদের উপস্থিতিতে অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ ভোটাভুটি পরিচালিত হয়। ভোটারদের সিংহভাগ সমর্থন লাভ করে সাদিক কায়েম শেষ পর্যন্ত মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হতে সক্ষম হন।
দলীয় নেতৃবৃন্দ জানান, এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিভিন্ন থানা ও বিভাগের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে দীর্ঘ পরামর্শ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে সাদিক কায়েমের পাশাপাশি দলের আরও একাধিক প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতার নাম মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছিল। এদের মধ্যে পূর্ববর্তী সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসনে জামায়াতের হয়ে অংশ নেওয়া সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুল মান্নানের নামও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয়েছিল। তবে সার্বিক রাজনৈতিক বাস্তবতা, তরুণ নেতৃত্বের চাহিদা এবং সংগঠনের গতিশীলতা বিবেচনা করে চূড়ান্ত পর্যায়ে উপস্থিত সকল দায়িত্বশীল সাদিক কায়েমের নামেই সম্মতি জ্ঞাপন করেন।
ছাত্র রাজনীতি থেকে নগর রাজনীতির নতুন অধ্যায়
সাদিক কায়েম বর্তমানে ইসলামী ছাত্রশিবির-এর কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ডাকসু ভিপি হিসেবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে তার ভূমিকা ছাত্র সমাজে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছিল। জামায়াতের নীতিনির্ধারণী সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে তার প্রার্থিতা আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ও নিবন্ধিত হলে তিনি ছাত্রসংগঠনের দায়িত্ব থেকে নিয়ম অনুযায়ী বিদায় নেবেন। এর মাধ্যমে তিনি ছাত্র রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে মূলধারার স্থানীয় সরকার রাজনীতিতে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডিএসসিসি নির্বাচনে একজন তরুণ ও ছাত্রপ্রিয় নেতাকে মেয়র প্রার্থী করার মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজধানী শহরের রাজনীতিতে নতুন এক মেরুকরণ সৃষ্টি করতে চায়। সাধারণ নগরবাসীর নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা, দুর্নীতিমুক্ত নগর প্রশাসন গঠন এবং তরুণ সমাজকে আধুনিক ঢাকা গড়ার কাজে উদ্বুদ্ধ করাই হবে তাদের মূল লক্ষ্য। সাদিক কায়েমের এই মনোনয়ন নগর নির্বাচনে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন তার সমর্থকেরা।
দলীয় দায়িত্বশীলরা মনে করেন, ডাকসুর মতো দেশের সর্বপ্রধান ছাত্র সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার অভিজ্ঞতা তাকে ঢাকার দক্ষিণ অংশের অধিবাসীদের সুখ-দুঃখ ও নানা সমস্যার সমধান কল্পে কাজ করতে দারুণভাবে সহায়তা করবে। তিনি আগামী দিনে নগরবাসীর প্রত্যক্ষ আস্থা অর্জনে সফল হবেন বলে দলীয় নীতিনির্ধারকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
#রাজনীতি #ডিএসসিসি #নির্বাচন #বাংলাদেশ #সংবাদ