ঢাকা-১১ আসনে সংকট সমাধানের জন্য যোগ্য নেতৃত্ব ও সমাধান খুঁজছেন স্থানীয় ভোটাররা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার ঢাকা-১১ আসনে নাগরিক প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন মাত্রা পেয়েছে। ভোটারদের প্রধান মনোযোগ এখন দীর্ঘদিনের জমে থাকা নাগরিক ভোগান্তি নিরসন এবং যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের দিকে। বাড্ডা, ভাটারা, রামপুরা ও হাতিরঝিল থানার একাংশ নিয়ে গঠিত এই আসনে প্রায় সাড়ে চার লাখ ভোটার রয়েছেন। তবে এ অঞ্চলে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে বসবাস করেন বিপুল সংখ্যক মানুষ, যাদের দৈনিক জীবনের সংকটগুলো দিন দিন প্রকট হয়ে উঠেছে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের সবচেয়ে বড় নাগরিক সংকট হলো তিতাস লাইনের গ্যাস ও ওয়াসার পানির তীব্র অপ্রতুলতা। প্রতিদিন সকালের পর বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় অথবা চাপ কমে যায়, যার ফলে রান্নাবান্না করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে বহু এলাকায় গভীর রাত পর্যন্ত মোটর চালিয়েও পানির পাইপে পর্যাপ্ত পানি মেলে না। অনেক পরিবারের নারী ও সাধারণ অধিবাসীদের দৈনন্দিন রান্নাবান্নার পানির জন্য দূরের পাম্পগুলোতে ছুটতে হয়। ক্ষুব্ধ নাগরিকেরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “যিনি গ্যাস এবং পানির স্থায়ী সমাধান দিতে পারবেন, তাকেই আমরা নিজেদের ভোট প্রদান করব।”

বহুবিধ জনদুর্ভোগ, চাঁদাবাজি ও সামাজিক নিরাপত্তার অভাব

গ্যাস ও পানির সংকট ছাড়াও বাড্ডা ও রামপুরা এলাকায় একাধিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা বিদ্যমান। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে প্রগতি সরণি সড়কে সার্বক্ষণিক তীব্র যানজট লেগে থাকে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল এবং ফুটপাত দখলের ফলে পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। এর পাশাপাশি অলিগলিতে রিকশাচালক এবং ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলার মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান যে, এলাকায় মাদক কারবারিদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় চুরি ও ছিনতাই বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ভূমি ও ভবন দখলের কারণে সাধারণ জমির মালিকেরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। বহু ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হলেও এখানে শিশুদের খেলাধুলার জন্য কোনো উন্মুক্ত পার্ক বা খেলার মাঠ নেই।

স্বাস্থ্যসেবার চরম সংকট ও সরকারি হাসপাতালের দাবি

বিপুল জনগোষ্ঠীর এই এলাকায় কোনো সরকারি হাসপাতাল না থাকা আরেক বড় মানবিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। অসুস্থ হলে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে বহুদূরে অবস্থিত কুর্মিটোলা অথবা মুগদা জেনারেল হাসপাতালে যেতে হয়। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসার ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া অত্যন্ত কঠিন ও ব্যয়বহুল। ফলে আগামী দিনের জনপ্রতিনিধির কাছে এ এলাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি হাসপাতাল স্থাপনের জোরালো দাবি উঠেছে।

প্রার্থী ১০ জন: ত্রিমুখী ও দ্বিমুখী ভোটের তুমুল লড়াইয়ের পূর্বাভাস

ঢাকা-১১ আসনে এবার নির্বাচনে মোট ১০ জন প্রার্থী লড়ছেন। এদের মধ্যে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ কাইয়ুম এবং ১১ দলীয় ঐক্যের মনোনীত প্রার্থী মো. নাহিদ ইসলামের মধ্যে। এছাড়া অন্যান্য দলের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ, জাতীয় পার্টি-র শামীম আহমেদ, গণঅধিকার পরিষদ-এর আরিফুর রহমান, গণফোরাম-এর আবদুর কাদেরসহ অন্যান্য স্বতন্ত্র ও দলীয় প্রার্থীরা মাঠে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভোটাররা বলছেন, বিগত সময়ে এলাকায় দৃশ্যমান কোনো গণমুখী উন্নয়ন বা তদারকি না থাকায় তারা এবার অত্যন্ত সচেতনভাবে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে চান। প্রার্থীরাও জনগণের কাছে গিয়ে समस्या সমাধানের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এখন দেখার বিষয়, এলাকার জনদুর্ভোগ দূর করে ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে কে সক্ষম হন।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #ঢাকা১১ #জাতীয়সংসদনির্বাচন #নাগরিকসংকট