ঢাকা-১৬ আসনে নির্বাচনী উত্তাপ: প্রচারণায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন দুই প্রধান প্রার্থী, বাকিরা মাঠে নিষ্ক্রিয়
ঢাকা-১৬ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র ১১ দিন বাকি থাকলেও নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সাধারণত নির্বাচনের এই শেষ মুহূর্তগুলোতে প্রার্থীদের চূড়ান্ত ব্যস্ত সময় পার করার কথা থাকলেও, এই আসনে চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সংসদীয় আসনটিতে মোট ১১ জন প্রার্থী চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও ৯ জন প্রার্থীই মাঠপর্যায়ে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় ও স্থবির হয়ে আছেন। কেবল বিএনপি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র প্রার্থীরাই দিনরাত এক করে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
আসনের সীমানা, অতীত ইতিহাস ও ভোটের সমীকরণ
পল্লবী ও রূপনগর থানা এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২, ৩, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৩২১ জন। ১৯৯১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সাতটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে পাঁচবার আওয়ামী লীগ এবং দুবার বিএনপি বিজয়ী হয়েছিল। অতীতে ১৯৯১ সালে অবিভক্ত ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি-র মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন প্রয়াত হারুনুর রশীদ মোল্লাহ্। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ সালে কামাল আহমেদ মজুমদার এবং ২০০১ সালে বিএনপি-র এস এ খালেক বিজয়ী হন। ২০০৮ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ্। তবে সাম্প্রতিক ক্ষমতার পটপরিবর্তনের ফলে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ অনেকটাই জটিল হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে আসনে বিএনপি-র মনোনীত প্রার্থী হলেন দলের কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক। তিনি বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম ও নিবিড় উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ভোটারদের মধ্যে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। আমিনুল হক বলেন, “অলিগলিতে পাকা রাস্তা নির্মাণের পাশাপাশি আমরা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নিয়ে কাজ করছি। নির্বাচিত হতে পারলে ঢাকা-১৬ আসনকে পুরোপুরি মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলব।”
অন্যদিকে সমানতালে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামী-র মজলিশে শুরা সদস্য ও শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ কর্নেল (অব.) মো. আবদুল বাতেন। তিনি বলেন, “আমার নির্বাচনী এলাকায় কোনো মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সুনির্দিষ্ট হাসপাতাল কিংবা আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। জয়ী হলে আটকে পড়া বিহারীদের পূর্ণাঙ্গ নাগরিক সুবিধাসহ এসব মৌলিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান করব।”
অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান ও এলাকার প্রধান সমস্যাবলি
প্রধান দুই দলের বাইরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ এবং বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট-এর প্রার্থীরা। পিছিয়ে থাকা প্রার্থীরা বড় শোডাউনের চেয়ে ছোট ছোট দলে লিফলেট বিতরণ ও পরিচিত হওয়ার কৌশল বেছে নিয়েছেন বলে জানান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, তীব্র গ্যাস সংকট, মশার উপদ্রব, কিশোরগ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, মাদকের বিস্তার এবং প্রধান সড়ক ও ফুটপাত অবৈধভাবে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের দখলে থাকা এখানকার নিত্যদিনের বড় সমস্যা। কালশী, বাউনিয়াবাধ ও মিরপুর-১১ এলাকার ভোটাররা চান এমন একজন যোগ্য ও দূরদর্শী নেতা, যিনি কোনো দলীয় মার্কার তোয়াক্কা না করে এলাকার সুখে-দুঃখে পাশে থাকবেন এবং সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবেন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন #ঢাকা_১৬