নির্বাচনি প্রচারণায় অতর্কিত হামলা: প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র শঙ্কা

রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণায় চলার সময় এক অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার পর ঢাকা-১৮ আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী মো. আরিফুল ইসলাম নিজের এবং তার দলীয় নেতাকর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। দুপুরে উত্তরা-র বিএনএস সেন্টারে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি পুরো হামলার ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন এবং দোষীদের অবিলম্বে শাস্তির দাবি জানান।

ডুমনি এলাকার হামলার বিবরণ ও ঘটনার বিস্তারিত

সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থী আরিফুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে বলেন, “সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আমরা খিলক্ষেত-এর ডুমনি এলাকায় আমাদের নির্ধারিত নির্বাচনি প্রচারণায় যাই। সেখানে নূরপাড়া আলিম মাদরাসা মাঠে পৌঁছানোর পরপরই স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ মদদে আমাদের ওপর এই পরিকল্পিত ও অতর্কিত হামলা চালানো হয়।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিএনপি-র স্থানীয় ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের নেতা দিদার মোল্লার নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে তাদের ওপর আক্রমণ পরিচালনা করে। উক্ত হামলায় মোহাম্মদ সেলিম মিয়া, মো. ইসরাফিল, মোহাম্মদ নাহিন, মোহাম্মদ রানা আহমেদ এবং সোহেল আহমেদ সরাসরি অংশ নেন বলে তিনি দাবি করেন।

এই হিংসাত্মক হামলায় স্থানীয় মাদরাসার অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, জামায়াতে ইসলামী-র কর্মী রিয়াজুল হোসেন এবং ইনসাফ-এর কর্মী সাইফুল ইসলামসহ আরও বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলায় জড়িত ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণ চালায় ও বেধড়ক মারধর করে। এতে করে সাধারণ পথচারী ও সমর্থকদের মধ্যেও চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয় এবং নির্বাচনি পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

নিরাপত্তা শঙ্কা ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে নিজের ও সাধারণ নেতাকর্মীদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে আরিফুল ইসলাম বলেন, “আমরা একদম সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা মানুষ এবং সাধারণ জনগণকে নিয়েই রাজনীতি করি। ফলে এই ধরনের অতর্কিত হামলার ঘটনা আমাদের চরম নিরাপত্তার হুমকিতে ফেলে দিয়েছে।” তিনি প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তোলেন।

তিনি জানান, এর পূর্বে আব্দুল্লাহপুর এলাকায় তাদের নির্ধারিত নির্বাচনি কার্যালয়ের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছিল। পরবর্তীতে খিলক্ষেত-এ নতুন কার্যালয় উদ্বোধনের সময়েও প্রকাশ্য হুমকি দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজকের এই সশস্র হামলা চালানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি-র প্রার্থী এলাকায় কৃত্রিম সংঘাতময় পরিবেশ তৈরির পাঁয়তারা করছেন। উত্তরা-র আজমপুরে একই দিনে পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে সংঘাত সৃষ্টির উসকানি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে হামলায় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।

#নির্বাচন #বাংলাদেশ #রাজনীতি #সংবাদ