রাজধানীর ঢাকা-৫ আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে সালাহউদ্দিন আহমেদ, নবীউল্লাহ নবী এবং জাকির হোসেন নয়ন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী দল তাদের প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেনকে নিয়ে জোর প্রচারণা চালাচ্ছে। যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৫ আসনটি জাতীয় সংসদের ১৭৮ নম্বর আসন। প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে হ্যান্ডবিল বিতরণ, উঠান বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের পরিস্থিতি

ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির তিন মনোনয়নপ্রত্যাশী সক্রিয়। তারা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নবীউল্লাহ নবী এবং জাকির হোসেন নয়ন। নবীউল্লাহ নবী প্রচারণায় এগিয়ে আছেন এবং নিয়মিত গণসংযোগ করছেন।

নবীউল্লাহ নবী বলেছেন, “এখনো অন্য প্রার্থীদের মাঠে সেভাবে দেখছি না। আশা করি, আগামী দিনগুলোতে সবাই মাঠে নির্বাচনি প্রচরণায় সরব হবে। আমি চাই সব প্রতিদ্বন্দ্বী মাঠে আসুক। এতে ভোট করে আনন্দ পাবো।”

বিএনপির নেতাকর্মীদের মতে, সালাহউদ্দিন আহমেদ বর্তমানে অসুস্থ। দলের ‘এক পরিবার এক প্রার্থী’ নীতির কারণে তার ছেলে তানভীর আহমেদ রবিনকে ঢাকা-৪ আসনে মনোনয়ন দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে সালাহউদ্দিনের সমর্থকরা তাকে পরীক্ষিত নেতা দাবি করছেন। জাকির হোসেন নয়ন একজন ব্যবসায়ী নেতা, যিনি পূর্বে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন না বলে কিছু নেতাকর্মী মনে করেন। নবীউল্লাহ নবী আরও উল্লেখ করেছেন যে, দল তাকে নির্বাচনের জন্য মাঠে নামতে বলেছে এবং তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে দুই ঘণ্টায় ৬৯ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। এবার লেভেল প্লেইং ফিল্ড থাকলে তিন লাখ ভোট পেয়ে জয়ী হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।

জামায়াত ও অন্যান্য দলের প্রচারণা

বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী দল ঢাকা-৫ আসনে মোহাম্মদ কামাল হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছে। তিনি নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন। কামাল হোসেন ‘জুলাই স্পিরিট’ ধারণ করে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, সক্রিয় আন্দোলনের কারণে তাকে আওয়ামী লীগ শাসনামলে নয়বার জেলে যেতে হয়েছে।

মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেছেন, “উই ওয়ান্ট জাস্টিস স্লোগান ধারণ করে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন আমার প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার। আমরা মানুষের সঙ্গে কথা বলছি, সবার একটিই কথা- এখানে সুশাসন দরকার, এখানে মানবিক শাসন দরকার।”

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, ঢাকা-৫ আসন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। মাদক ও দখলের মতো সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যাও এখানে বিদ্যমান। তিনি এই সমস্যাগুলো সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে সাবেক কাউন্সিলর হাজি মো. ইবরাহীমও প্রচারণা শুরু করেছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে এখনো কোনো প্রার্থীকে মাঠে দেখা যায়নি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মো. রাশেদুল ইসলাম (রাশেদ) নামে একজন ব্যক্তির কিছু পোস্টারও চোখে পড়েছে।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা ও ভোটের চিত্র

এলাকাবাসীর মতে, ঢাকা-৫ আসনে মাতুয়াইল, রায়েরবাগ, শনির আখড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এখনো পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধা নেই। জলাবদ্ধতা, খারাপ রাস্তাঘাট, ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাব এবং মশার উপদ্রব এখানকার প্রধান সমস্যা। তারা এই বঞ্চনার অবসান চান এবং শান্তি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠাকারী প্রার্থীকে ভোট দিতে আগ্রহী।

নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী, ঢাকা-৫ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৯২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫৪৩ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৪৬ হাজার ১৪৬ জন এবং হিজড়া ভোটার তিনজন। অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ঢাকা-৫ আসনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতি ও প্রচার-প্রচারণা ক্রমশ জোরদার হচ্ছে।