ঢাকা-৫ আসনে নির্বাচনি প্রচারণা তুঙ্গে: প্র প্রার্থীদের নাগরিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকা-৫ সংসদীয় আসনে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উদ্দীপনা। যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা থানা এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১২টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই আসনে জমে উঠেছে মূল প্রচারণা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন এবং নানা ধরনের নাগরিক সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৯৬ জন। প্রার্থীরা ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ভিডিও বার্তা ও জনসভার মাধ্যমে তাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরছেন।

প্রার্থীদের মূল অঙ্গীকার ও নাগরিক দুর্ভোগ

দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের বাসিন্দারা জলাবদ্ধতা, গ্যাস ও পানির তীব্র সংকট, ভাঙাচোরা রাস্তা এবং চাঁদাবাজির মতো নানা নাগরিক সমস্যায় জর্জরিত। ২০১৬ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধীনে এলেও প্রত্যাশিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত স্থানীয় জনগণ। ফলে এবারের নির্বাচনে প্রার্থীরা তাদের প্রচারণায় মূল প্রাধান্য দিচ্ছেন অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নবী উল্লাহ নবী এলাকায় গণসংযোগকালে বলেন, “আমাদের এই অঞ্চলে সরকারি কোনো হাসপাতাল, খেলার মাঠ, পার্ক বা মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। বিগত দিনে ভূমিদস্যুরা অবৈধভাবে সরকারি খাল-বিল ও জলাশয় ভরাট করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে।” তিনি জয়ী হলে সকল অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে সরকারি জায়গা পুনরুদ্ধার করা এবং এলাকাটিকে একটি আধুনিক মডেল আসন হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও শিল্প কারখানা চালুর প্রতিশ্রুতি

অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি তার ভিডিও বার্তায় জানান, “বৃহৎ এই জনগোষ্ঠীর জন্য আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি ডেমরার বন্ধ থাকা ঐতিহ্যবাহী লতিফ বাওয়ানী জুট মিল ও করিম জুটমিল পুনরায় চালু করা হবে।” এছাড়া সরকারি কলেজ স্থাপন ও মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ কাজ করার কথা বলেন তিনি।

এদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী হাজী মো. ইবরাহীম চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। ডেমরা সারুলিয়া বাজারের জনসভায় তিনি বলেন, “দায়িত্ব পেলে এ অঞ্চল থেকে চাঁদাবাজি ও জুলুম চিরতরে বন্ধ করা হবে। তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার গড়ে তোলা হবে।”

চূড়ান্ত ভোটযুদ্ধের প্রস্তুতি

নির্বাচনি তফসিল অনুযায়ী আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচারণা চালানো যাবে। মূল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রধান দলগুলোর প্রার্থীরা প্রতিদিন বিভিন্ন ওয়ার্ডে পথসভা ও গণসংযোগ পরিচালনা করছেন। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা থেকে মুক্তি পেতে ভোটাররাও সৎ ও যোগ্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে মুখিয়ে আছেন।

#জাতীয়_সংসদ_নির্বাচন #ঢাকা_৫ #নির্বাচনি_প্রচারণা #রাজনীতি