ঢাকা-৭ সংসদীয় আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পুরান ঢাকার এই আসনে বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে একাধিক নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী হওয়ায় দলটি কিছুটা বেকায়দায় রয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একক প্রার্থী ঘোষণা করে তুলনামূলকভাবে নির্ভার অবস্থানে আছে।
লালবাগ, চকবাজার, হাজারীবাগ, বংশাল এবং কোতোয়ালির কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ঢাকা-৭ আসনটি প্রাচীন ঐতিহ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র। ঐতিহাসিক স্থাপনা সমৃদ্ধ এই এলাকা আসন্ন নির্বাচনের ডামাডোলে মুখরিত।
বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা
ঢাকা-৭ আসনে বিএনপি থেকে অন্তত ছয়জন নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে মাঠে সক্রিয়। এদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ এবং সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরুদ্দিন আহমেদ পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনা। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম রাসেলও মনোনয়নপ্রত্যাশী। তিনি বলেন,
শেখ হাসিনা মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করেছিল। আমি মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই। পুরান ঢাকায় ব্যবসায়ীদের বসবাস অনেক, তাদের নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত পুরান ঢাকা বিনির্মাণে কাজ করবো।
যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকারসহ আরও কয়েকজন নেতাও মনোনয়ন দৌড়ে আছেন। জোট হলে আসনটি খেলাফত মজলিসের নেতা মাওলানা মামুনুল হককে ছেড়ে দেওয়ার গুঞ্জনও রয়েছে।
জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই আসনে একক প্রার্থী হিসেবে হাজি এনায়েত উল্লাহকে মনোনীত করেছে। জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন বলেন,
আমাদের টার্গেট যোগ্য ও ন্যায়পরায়ণ লোক। যারা দুর্নীতি ছাড়া মানুষের আমানত রক্ষা করবে। এনায়েত সাহেবের যোগ্যতা অনুযায়ী তাকে প্রার্থী নির্বাচন করা হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও এই আসনে একক প্রার্থী দিয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় কৃষি ও শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তিনি বলেন,
আমাকে পীর সাহেব চরমোনাই ঢাকা-৭ আসনের জন্য মনোনীত করেছেন। আমি মানুষের খাদেম হতে চাই।
এনসিপির পক্ষ থেকে কোনো প্রার্থীর প্রচারণা চোখে পড়েনি।
ভোটারদের প্রত্যাশা ও নির্বাচনী ইতিহাস
ঢাকা-৭ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৯৩৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮১ হাজার ১৭০ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ৭৬৫ জন। এই আসনের ভোটাররা দল দেখে নয়, বরং স্থানীয় ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিতে আগ্রহী। চকবাজারের অধিবাসী রমিজ মাতুব্বর বলেন,
আমরা আমাদের সন্তানদেরই নির্বাচিত করবো। বাইরে থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসেছে এমন কাউকে আমাদের ভোট দেওয়া সম্ভব না।
বুড়িগঙ্গা নদী তীরবর্তী হওয়ায় এই এলাকা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা করার নিশ্চয়তা চান।
নির্বাচনী ইতিহাসে দেখা যায়, ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করলেও ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা এই আসনে জয়ী হন। ২০০৮ সাল থেকে আসনটি আবার আওয়ামী লীগের দখলে যায়। এবারের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকায় বিএনপি আসনটি পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট হবে এবং জামায়াত তাদের শক্তি প্রদর্শনে প্রস্তুত।