আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের ভূমিকা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ (ডাকসু ও জাকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রকৃষ্ট ফল জামায়াতের নেতাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। দল মনে করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকে শুরু হওয়া যুব সমর্থন জাতীয় পর্যায়ে প্রভাব ফেলতে পারে এবং তরুণ ভোটাররা নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
জামায়াতের আশাবাদ ও বক্তব্য
দলের নেতারা বলেন, ডাকসু-জাকসুতে বিজয় আন্দাজ করে তারা আগামী জাতীয় নির্বাচনে তরুণ ভোটব্যাংক কাজে লাগাতে পারবে বলে আশা করছেন। জামায়াত মনে করছে, হামেশাই নয়, এবার শিক্ষার্থীরা তাদের বিবেক ও কর্মপন্থা দেখে ভোট দিয়েছে এবং এই পরিবর্তিত মনোভাব জাতীয় নির্বাচনে প্রতিফলিত হবে। দলটির ধারণা, সামনের জাতীয় নির্বাচনে প্রায় দুই কোটি নতুন তরুণ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে এবং তরুণরা শুধু নিজেরাই নয়, পরিবারকেও প্রভাবিত করবে।
“শিক্ষার্থীরা বহু বছর পর একটা নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে ভোট দিয়েছে। তারা তাদের বিবেক দিয়ে ভোট দিয়েছে। ছাত্রশিবির মার খেয়েই ক্যাম্পাসে টিকে ছিল। সেটার ফল ছাত্র সংসদ নির্বাচনে পেয়েছি। গলাবাজির রাজনীতি আর চলবে না। সেটা শিক্ষার্থীরা বুঝেছে। জাতীয় নির্বাচনেও এসব বিষয় চিন্তা করে মানুষ ভোট দেবেন।”
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট ও তরুণ ভোটার সংখ্যা
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হতে পারে। নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হওয়া অবস্থায় রাজনীতির নানা পক্ষ তরুণ ভোটার টানার চেষ্টা চালাচ্ছে।
ইসির তথ্য অনুযায়ী দেশে মোট ১৮ বছর ও তদূর্ধ্ব নাগরিকের সংখ্যা ১২ কোটি ৪৪ লাখের বেশি। তাদের মধ্যে প্রায় চার কোটি ভোটারের বয়স ১৮-৩৩ বছরের মধ্যে। বিস্তারিতভাবে বয়সভিত্তিক ভৌতসংখ্যা হল:
- ১৮-২১ বছর বয়সী: ৭৬ লাখ ৮৫ হাজার
- ২২-২৫ বছর বয়সী: ১ কোটি ১২ লাখ ৫৫ হাজার
- ২৬-২৯ বছর বয়সী: ১ কোটি ১৪ লাখ ৬৭ হাজার
মোট জনসংখ্যার প্রেক্ষিতে নতুন প্রায় চার কোটি ভোটার মোট ভোটারের প্রায় ৩০ শতাংশ বলে ইসি জানিয়েছে। এই সংখ্যা ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনগুলোর ফলের মধ্যে সম্পর্ককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশলগত কার্যক্রম ত্বরান্বিত হয়েছে।
বিশ্লেষক ও শিক্ষার্থীদের মনোভাব
কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও শিক্ষক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক রাজনীতি ও স্থানীয়-জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতি একরকম নয়। যে প্রভাব ক্যাম্পাসে দেখা গেছে তা যে সরাসরি জাতীয় ফলাফল নির্ধারণ করবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। অন্যদিকে ছাত্ররা সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন মাধ্যমে অনেকটাই সচেতন এবং তারা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়—এই বিষয়টিও রাজনৈতিক মহলে গুরুত্ব পাচ্ছে।
ডাকসু-জাকসু নির্বাচনের ফল ও তরুণ ভোটারদের সংখ্যা মিলিয়ে জামায়াত তরুণদের মধ্যে আশাবাদী। তারা বলছে, রাজনীতির এই পরিবর্তিত বিবেচনায় আগামী জাতীয় নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের প্রভাব থাকবেই—এটাই তাদের প্রত্যাশা।