তারেক রহমানের নেতৃত্বেই আগামীর বাংলাদেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে: বিএনপির নেতারা

ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে শাহজাদপুরে আয়োজিত এক জনসভায় বিএনপি-র শীর্ষ নেতারা দলীয় নীতি, ভিশন ও আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশল তুলে ধরে বক্তব্য প্রধান করেন। সভায় বক্তারা বলেন, দেশের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা, সামাজিক সংকট ও পররাষ্ট্রনীতির বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে কেবল যোগ্য ও পরীক্ষিত নেতৃত্ব। সে লক্ষ্যেই দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেন, জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার মতো দূরদর্শী রাজনীতিকদের ধারাবাহিকতায় বিএনপি-র বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই আগামী দিনে বাংলাদেশ-কে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, সুশাসন ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা

বিএনপি-র রাজনৈতিক অবদানের দিকটি উল্লেখ করে সালাম তার বক্তব্যে বলেন, অতীত ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসার পর চরম সংকটময় মুহূর্তেও দলটি দেশকে একটি শক্ত অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিল। জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব তৎকালীন ভঙ্গুর অর্থনীতি ও বিশৃঙ্খল রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে দেশকে রক্ষা করেছিল। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। বক্তারা উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে দেশে গণতন্ত্র পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং একটি মহল সুপরিকল্পিতভাবে আসন্ন নির্বাচন বানচাল ও প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।

জনগণের আস্থা, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও ৩১ দফা ইশতেহার

রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি-র স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে জানানো হয় যে, দেশের তরুণ সমাজ, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও নারী সমাজের ক্ষমতায়নে সুনির্দিষ্ট ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। অন্য কোনো রাজনৈতিক দল এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রের সার্বিক সংস্কারের জন্য এমন সমন্বিত পরিকল্পনা জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে পারেনি। “তারেক রহমান দেশে ফিরে আসার পর কোটি কোটি সাধারণ মানুষ তাকে যে অভূতপূর্ব উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছিল, তা জনগণের অকৃত্রিম ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ।” তিনি বর্তমানে গণমানুষের কাছে আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন এবং তার সুস্পষ্ট রূপরেখা বাস্তবায়নই দেশের সার্বিক উন্নয়নের প্রধান পথ।

ভোটের অধিকার রক্ষা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের আহ্বান

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রবীণ বিএনপি নেতারা বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পর দেশের মানুষ অত্যন্ত কষ্টের বিনিময়ে তাদের ভোটাধিকার পুনরায় ফিরে পেয়েছে। নাগরিকরা কোনো অবস্থাতেই এই পবিত্র আমানত নষ্ট হতে দেবে না। নির্বাচনি প্রচারণা চলাকালে ভোটারদের বিভ্রান্ত করা, বিশেষ করে বিকাশ নম্বর সংগ্রহ বা আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে নিম্ন আয়ের ভোটারদের প্রভাবিত করার নৈতিকতাহীন কৌশলের তীব্র সমালোচনা করা হয়। “ভোট কোনো ক্রয়-বিক্রয়ের পণ্য নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার।” ধর্মের নামে ভোট কেনাবেচার অপচেষ্টা প্রতিহত করার জন্য সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

নেতাকর্মীদের অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের নির্দেশ দিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, ষড়যন্ত্র করে জনগণের বিজয়কে দীর্ঘায়িত করা যাবে না। সাধারণ মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে সারিবদ্ধভাবে তাদের ভোট প্রদান করে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করবে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠন ও বিএনপির বিভিন্ন স্তরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন #বিএনপি #গণতন্ত্র