তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে দূর হলো নির্বাচনের শঙ্কা: এনসিপি
বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বদেশে ফিরে আসায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সাধারণ মানুষের মনের সব অনিশ্চয়তা ও শঙ্কা কেটে গেছে বলে মন্তব্য করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির দায়িত্বশীল রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা মনে করছেন, তার এই প্রত্যাবর্তন দেশের সার্বিক রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।
নির্বাচনী আবহ ও জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা
জাতীয় নাগরিক পার্টি-র সদস্যসচিব আখতার হোসেন এক আলোচনায় জানান, দেশে নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারিত বা ঘোষিত হলেও তা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর সংশয় ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল। তবে তারেক রহমানের স্বদেশে ফিরে আসার ঘটনা সেই সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও শঙ্কা পুরোপুরি দূর করে দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, তার আগমনী বার্তা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনের পরিবেশ ফিরিয়ে এনেছে। অন্যদিকে, এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব জানান, তারেক রহমান দলীয় রাজনীতির প্রথাগত গণ্ডি পেরিয়ে সামগ্রিক জাতীয় রাজনীতিতে আগামী দিনে কী ধরনের ভূমিকা রাখেন, এখন সেদিকেই পুরো দেশের চোখ থাকবে।
আদিব আরও স্মরণ করিয়ে দেন, সুদীর্ঘকাল প্রবাসে বা নির্বাসনে অবস্থান করেও তারেক রহমান সাফল্যের সঙ্গে নিজ দল বিএনপি-কে সুসংগঠিত রেখেছেন ও কঠিন সময়ে দূরদর্শী নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠনে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তিনি কতটা কার্যকর প্রভাব ফেলতে পারেন, সেটাই এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন ও উষ্ণ গণসংবর্ধনা
যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে সুদীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে অবশেষে নিজ জন্মভূমিতে পদার্পণ করেছেন দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলটির শীর্ষনেতা। তাকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি প্রথমে সিলেট স্পর্শ করার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-র হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ নিরাপদে অবতরণ করে। বিমানবন্দর থেকে তার সুবিশাল গাড়িবহর যৌথ বাহিনীর কড়া ও সুসংহত নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ৩০০ ফিট সড়ক অর্থাৎ জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে-তে প্রবেশ করে।
সমগ্র পথজুড়ে হাজার হাজার উৎসুক জনতা ও উল্লাসিত দলীয় নেতাকর্মী তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তিনি খোলা বাসের সামনে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে অগণিত সমর্থকদের শুভেচ্ছা বার্তা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে তিনি এক্সপ্রেসওয়েতে আয়োজিত সুবিশাল সংবর্ধনা মঞ্চে এসে পৌঁছান।
নিরাপদ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়
গণসংবর্ধনা মঞ্চে উপস্থিত মহাসমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে তারেক রহমান এক অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ দেশ গড়ার নিজস্ব রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমরা সবাই মিলে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। এমন একটি মানবিক সমাজ গঠন করতে চাই যেখানে একজন নারী, একজন পুরুষ কিংবা একজন শিশু—যেই হোক না কেন, নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে যেন আবারও স্বস্তিতে ও নিরাপদে নিজ ঘরে ফিরে আসতে পারে।” তার এই বক্তব্য উপস্থিত হাজারো মানুষের হৃদয়ে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #জাতীয়_নির্বাচন #সংবাদ