তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: রাজধানীজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ছক

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশে ফিরছেন বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই বহুল প্রতীক্ষিত স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উদ্দীপনা সৃষ্টির পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে অভূতপূর্ব ও কড়া নিরাপত্তার চাদর। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে রাজধানীর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিচ্ছিন্দ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা ও প্রান্ত থেকে দলটির লাখ লাখ নেতাকর্মী প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে ঢাকা-য় এসে সমবেত হচ্ছেন।

তিন স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা ও বুলেটপ্রুফ প্রস্তুতি

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের সূত্র অনুযায়ী, তারেক রহমানের সার্বিক সুরক্ষায় সমগ্র এলাকাকে রেড জোন, ইয়েলো জোন এবং হোয়াইট জোন—এই তিনটি বিশেষ ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। রেড ও ইয়েলো জোনে প্রবেশের জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও দলের পক্ষ থেকে বিশেষ সিকিউরিটি কার্ড ইস্যু করা হয়েছে, যা ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের উচ্চপর্যায় ও বিএনপি Chairpersons Security Force (CSF) একাধিক যৌথ সমন্বয় সভা সম্পন্ন করেছে। সফরকালে তার যাতায়াতের জন্য বিদেশ থেকে বিশেষ বুলেটপ্রুফ গাড়ি আনা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে বাংলাদেশে নিবন্ধিত ও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বিমানবন্দর থেকে হাসপাতাল ও বাসভবনের রুট প্ল্যান

লন্ডন-এর হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তারেক রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন। ফ্লাইটটি সিলেট হয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ অবতরণ করবে। নিরাপত্তার স্বার্থে ২৪ ঘণ্টার জন্য বিমানবন্দরে সাধারণ দর্শনার্থী প্রবেশের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

বিমানবন্দরে অবতরণের পর দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানাবেন। সেখান থেকে তিনি সড়কপথে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় গমন করবেন। উক্ত রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে লাখ লাখ নেতাকর্মী তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাবেন। ৩০০ ফিট এলাকায় প্রস্তুতকৃত সুবিশাল মঞ্চে তিনি সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে এক দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেবেন। সভা শেষে তিনি সরাসরি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাবেন এবং পরবর্তীতে গুলশান-এর বাসভবন ‘ফিরোজা’-য় অবস্থান নেবেন।

মাঠে থাকবে সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ও ডগ স্কোয়াড

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স জানায়, তারেক রহমানের যাতায়াতের রুট ও বাসভবন ঘিরে প্রায় দুই হাজারের বেশি সশস্ত্র পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন থাকবে। “তিনি চলাচলের সময় বিশেষ পুলিশ প্রটেকশন সুবিধা পাবেন এবং তার কার্যালয় ও বাসস্থান সার্বক্ষণিক ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করা হবে।” এছাড়াও যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ডিএমপির বিশেষায়িত সোয়াট টিম এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। বিশেষ নজরদারির অংশ হিসেবে ৯টিরও বেশি চেকপোস্ট বসিয়ে সার্বক্ষণিক তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #তারেক_রহমান #বিএনপি #জাতীয়_সংবাদ