তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: ১৫ বছর আগের পূর্বাভাস স্মরণ আন্দালিব পার্থের
বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে পরম আকাঙ্ক্ষিতভাবে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন। তার এই ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা ও ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)-র চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভেরিফায়েড পাতায় এক আবেগঘন এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে, তারেক রহমান যে একদিন বিজয়ের সাথে দেশে ফিরে আসবেন, সেই কথাটি তিনি আজ থেকে প্রায় ১৫ বছর আগেই জাতীয় সংসদে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় ও দৃঢ়তার সাথে ব্যক্ত করেছিলেন।
জাতীয় সংসদে সাহসিকতার স্মৃতিকথা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা
আন্দালিব পার্থ তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তায় অতীত দিনের সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতিচারণ করে বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর এখন বাংলাদেশ-এ অবস্থান করছেন। আজ থেকে প্রায় ১৫ বছর আগে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলাম, তারেক রহমান বীরের বেশে দেশে ফিরে আসবেন এবং এ দেশের সাধারণ জনগণই সততার সাথে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবেন।” তৎকালীন স্বৈরাচারী ও নিপীড়নমূলক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংসদে দাঁড়িয়ে এই ধরনের সত্য ও সাহসী মন্তব্য প্রকাশ করা কোনো সহজ বিষয় ছিল না। পার্থ স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি কোনো গণনা বা জ্যোতিষ শাস্ত্রের ওপর ভিত্তি করে এই ভবিষ্যদ্বাণী করেননি; বরং দেশের গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা এবং পরম করুণাময়ের ওপর অটল ও দৃঢ় বিশ্বাস থেকেই এই কথা বলেছিলেন।
রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে পার্থ আরও বলেন যে, তারেক রহমানের মতো গণমানুষের প্রিয় একজন উদীয়মান শীর্ষ নেতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোনো বিচারক বা আদালতের কলমের খোঁচা দিয়ে চিরতরে মুছে দেওয়া যায় না। কোনো আইনি বা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের চক্রান্ত দিয়ে জনগণের নেতাকে কখনোই অবদমিত করে রাখা সম্ভব নয়। তিনি গভীরভাবে বিশ্বাস করেন যে, যেকোনো সত্যকারের রাজনৈতিক নেতার ভাগ্য কেবল আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় এবং দেশের সর্বস্তরের জনগণের সুচিন্তিত জনমতের মাধ্যমেই সঠিক সময়ে নির্ধারিত হয়।
ঐতিহাসিক অভ্যর্থনা ও রাজকীয় প্রত্যাবর্তন
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত ও কঠিন জীবন অতিক্রম করে বৃহস্পতিবার রাজকীয়ভাবে দেশে ফিরে আসেন বিএনপি-র শীর্ষ নেতা। ইউকে-র রাজধানী লন্ডন থেকে রওনা হয়ে তাকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি প্রথমে ঐতিহ্যবাহী সিলেট পৌঁছায় এবং পরবর্তীতে রাজধানীর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে সফলভাবে অবতরণ করে। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ, সমর্থক ও নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড় সামলে যৌথবাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তার সুসজ্জিত গাড়িবহরটি ৩০০ ফিট সড়ক তথা নবনামাঙ্কিত জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে-তে প্রবেশ করে।
পরবর্তীতে এক্সপ্রেসওয়ে এলাকায় আয়োজিত বিশাল ও স্মরণকালের অন্যতম গণসংবর্ধনা মঞ্চে তিনি বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে পৌঁছান। লাখ লাখ সমর্থকের উপস্থিতিতে আয়োজিত উক্ত গণসংবর্ধনা সভায় দাঁড়িয়ে তিনি সমগ্র দেশবাসীর উদ্দেশ্যে সকল ভেদাভেদ ভুলে একটি সুন্দর, নিরাপদ, প্রগতিশীল ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার বিশেষ আহ্বান জানান। তার এই আগমনে আনন্দ প্রকাশ করে আন্দালিব পার্থ তারেক রহমানসহ বিএনপি-র লাখ লাখ নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন ও উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান।
ভবিষ্যৎ রাজনীতির নতুন দিগন্ত ও গণমানুষের প্রত্যাশা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন ও সম্ভাবনাময় অধ্যায়ের শুভ সূচনা হলো। দীর্ঘ আন্দোলন, চরম নির্যাতন ও নির্বাসনের পর তার এই প্রত্যাবর্তন দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং গণমানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইকে আরও বেগবান করবে। সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীরা আশা করছেন, তার সুদৃঢ় ও দিকনির্দেশনামূলক নেতৃত্বে বাংলাদেশ সামনের দিনগুলোতে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ, ইনসাফভিত্তিক ও বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বদরবারে নতুন করে আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম হবে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #জাতীয়তাবাদ