আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। দলটি ইতোমধ্যে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে এবং চূড়ান্ত তালিকাও প্রায় প্রস্তুত। এবারের নির্বাচনে জামায়াত তরুণ নেতাদের সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে, যা তাদের ছাত্র সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জয়ের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ঘোষিত ৩০০ আসনের মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ প্রার্থীই যুবক। তরুণ প্রার্থীদের প্রতি জামায়াতের গুরুত্ব জামায়াতে ইসলামী আগামী নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে যুবকদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের আহ্বানে তুরস্কের তুকাত গাজী উসমান পাশা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান শিক্ষকতা ছেড়ে দেশে ফিরেছেন এবং তাকে গাজীপুর-৬ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। গত ১০ নভেম্বর হাইকোর্ট গাজীপুর-৬ আসনের গেজেট বাতিল করে বাগেরহাটের আসন পুনর্বহালের রায় ঘোষণার পর এই ঘোষণা আসে। ড. হাফিজুর রহমান বলেছেন, "জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান তরুণদের গুরুত্ব দেন। এবারের নির্বাচনে জামায়াতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রার্থীর বয়স ৪০ বা এর কম হবে, এমনকি ৩০ থেকে ৩২ বছর বয়সী প্রার্থীও আছেন।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ডা. শফিকুর রহমান একটি মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবিক মর্যাদা, ইনসাফ ও ন্যায়ের ভিত্তিতে দেশ গড়ার জন্য পরিকল্পনা ও ইশতেহার সাজাচ্ছেন। ভোটার আকৃষ্ট করার কৌশল ও প্রার্থীর তালিকা নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৬১ লাখ ৭০ হাজার ৯০০ জন। এর মধ্যে ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী যুবকের সংখ্যা ৪ কোটির বেশি, যা মোট ভোটারের প্রায় এক তৃতীয়াংশ। এই বিশাল সংখ্যক তরুণ ভোটারকে কাছে টানতে পারলে ভোটের মাঠে বড় চমক দেখানো সম্ভব বলে জামায়াতে ইসলামী মনে করছে। এই লক্ষ্যেই তারা প্রার্থিতা দেওয়ার ক্ষেত্রে যুবকদের প্রাধান্য দিয়েছে বলে দলটির নেতারা জানিয়েছেন। প্রার্থিতা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জামায়াতের ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রায় ৮০ জনই যুবক। ৭০ শতাংশের বয়স ৫০ বছরের কম। এছাড়া প্রার্থীদের বেশিরভাগই এক সময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা ছিলেন। ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে ১৬ জন ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তারা হলেন: ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, রফিকুল ইসলাম খান, নুরুল ইসলাম বুলবুল, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, মো. সেলিম উদ্দিন, মো. রেজাউল করিম, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, সাইফুল আলম খান মিলন, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, দেলোয়ার হোসেন, আবদুল জব্বার, আতিকুর রহমান, ইয়াসিন আরাফাত, মোবারক হোসেন, হাফেজ মো. রাশেদুল ইসলাম ও সালাহউদ্দিন আইয়ুবী। দণ্ডপ্রাপ্ত পরিবারের মধ্য থেকেও অনেকে প্রার্থী হয়েছেন। এদের মধ্যে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন (পাবনা-১), দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে শামীম সাঈদী (পিরোজপুর-২) ও মাসুদ সাঈদী (পিরোজপুর-১) এবং মীর কাসেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার আরমান (ঢাকা-১৪) জামায়াতের হয়ে নির্বাচন করবেন। এছাড়া কুষ্টিয়া-৩ আসনে আলোচিত বক্তা মুফতি আমির হামজাকে প্রার্থী করা হয়েছে। প্রার্থী বাছাইয়ের মানদণ্ড ঢাকা-১১ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আতিকুর রহমান বলেছেন, "গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের ভূমিকার কারণে জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ছাত্র সমাজ ও যুব সমাজের আগ্রহ তরুণ নেতৃত্বের দিকে। তরুণরা সঠিকভাবে দেশের নেতৃত্বে আসতে পারলে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, লুটপাট থেকে দেশকে নতুন জায়গায় এনে দিতে পারবে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জামায়াত প্রার্থীদের একাডেমিক দিক, পেশাগত দিক এবং মাঠের অবস্থা বিবেচনা করে তরুণদেরই উপযুক্ত করে মাঠে নামিয়েছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও উত্তরাঞ্চলের সমন্বয়ক মাওলানা আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, তারা প্রাথমিকভাবে যে তরুণদের বাছাই করেছেন, তারা শিক্ষা বা পেশাগত দিক থেকে এগিয়ে। উচ্চশিক্ষিত এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশায় থাকা প্রার্থীদের তারা প্রাধান্য দিচ্ছেন।