বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) তরুণ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর মন্তব্যের বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। হাসনাত আবদুল্লাহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির সম্পৃক্ততা নিয়ে একটি মন্তব্য করেছিলেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে দুদু তাকে এমন কোনো কথা না বলার জন্য সতর্ক করেছেন যার দায়িত্ব তিনি নিতে পারবেন না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গণতন্ত্রের রীতিনীতি অনুসরণ না করলে ফ্যাসিবাদী হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
মঙ্গলবার (২০ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল আয়োজিত ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি গণতন্ত্র সুশাসন প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় শামসুজ্জামান দুদু এসব কথা বলেন। এই সভাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র ও সুশাসনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনার জন্য আয়োজিত হয়েছিল।
হাসনাত আবদুল্লাহর মন্তব্যের প্রেক্ষাপট
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ মন্তব্য করেছিলেন যে, “আওয়ামী লীগের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিএনপি চলে”। তার এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয় এবং এর প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির সিনিয়র নেতা শামসুজ্জামান দুদু তার অবস্থান স্পষ্ট করেন। হাসনাত আবদুল্লাহর এই ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং এর ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে পারস্পরিক মন্তব্যের আদান-প্রদান দেখা যাচ্ছে।
শামসুজ্জামান দুদুর প্রতিক্রিয়া
হাসনাত আবদুল্লাহর মন্তব্যের জবাবে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, কথা বলার আগে একটু চিন্তা-ভাবনা করে বলতে হয়। তিনি হাসনাত আবদুল্লাহকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “এমন কোনো কথা বলবা না যে কথার দায়িত্ব নিতে পারবা না।” দুদু আরও প্রশ্ন তোলেন যে, এভাবে কথা বললে মানুষের মনে তাদের সম্বন্ধে কী ধারণা তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহকে চিন্তা করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কথা বলা রাজনৈতিক অঙ্গনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শামসুজ্জামান দুদু হাসনাতের উদ্দেশে আরও বলেন যে, হিসাব করে চলা এবং কথা বলা উচিত। তিনি সতর্ক করে বলেন, “গণতন্ত্রের রীতিনীতি না মানলে ফ্যাসিস্ট হিসাবে চিহ্নিত হবা।” দুদু তার বক্তব্যে প্রতিহিংসামূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে রাজনীতি করার বিরুদ্ধেও মত দেন। তিনি বলেন, “এরকম প্রতিহিংসামূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে রাজনীতি করা যাবে না।” তার মতে, সুস্থ ও গঠনমূলক রাজনীতির জন্য পারস্পরিক সম্মান এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অপরিহার্য। এই ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং জনমনে ভুল বার্তা দিতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক নেতাদের উচিত তাদের বক্তব্যের বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং এমন কোনো মন্তব্য না করা যা সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে বা যার কোনো ভিত্তি নেই।
শামসুজ্জামান দুদুর এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে দায়িত্বশীল আচরণের প্রয়োজনীয়তা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধার গুরুত্ব তুলে ধরে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, রাজনৈতিক আলোচনায় শালীনতা ও যুক্তির স্থান থাকা উচিত, যেখানে ভিত্তিহীন অভিযোগের কোনো স্থান নেই।