বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেছেন যে, তার দল আগামীতে সরকার গঠন করলে কোনো সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী সরকারি উপহার গ্রহণ করবেন না। তারা করবিহীন গাড়িতে চড়বেন না এবং নিজ হাতে কোনো আর্থিক লেনদেন করবেন না। তিনি বলেন, আগামী বাংলাদেশে আরেকটি লড়াই হবে, যা দুর্নীতির বিরুদ্ধে পরিচালিত হবে। এর আগে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে একটি লড়াই হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। শনিবার (১৯ জুলাই) জামায়াত আয়োজিত এক জাতীয় সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, দুর্নীতির মূলোৎপাটনের জন্য যা যা প্রয়োজন, জামায়াত তা করবে এবং এই লড়াইয়েও তারা বিজয়ী হবে। দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার জামায়াতের আমির তার বক্তব্যে বলেন, তিনি গভীর পরিতাপের সঙ্গে জানাচ্ছেন যে, এই সমাবেশ আয়োজন করতে গিয়ে তিনজন ভাই নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। তিনি আবু সাঈদদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, তাদের আত্মত্যাগের কারণেই অনেকে জীবন রক্ষা করতে পেরেছেন। তিনি আরও বলেন, যাদের ত্যাগের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, তাদের যেন তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা না হয়। শিশু রাজনীতিবিদদের যেন অবজ্ঞা করা না হয় এবং অন্য কোনো দলকেও যেন অবজ্ঞা করা না হয়। তিনি অরাজনৈতিক ভাষায় কথা না বলার আহ্বান জানান এবং বলেন, যারা এটি পারবে না, তাদের মনে ফ্যাসিবাদ ভর করেছে বুঝতে হবে। তিনি জাতীয় ঐক্যের বীজতলা তৈরির কথা উল্লেখ করেন। ডা. শফিকুর রহমান প্রশ্ন তোলেন, জামায়াতে ইসলামী যে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়বে, তার প্রমাণ কী এবং মানুষ কীভাবে তা বিশ্বাস করবে? এই বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি মঞ্চে অসুস্থ হয়ে পড়ে যান। কিছুক্ষণ পর তিনি উঠে এসে কথা বলেন এবং জানান যে, গরমের কারণে তিনি অসুস্থ হয়েছিলেন। এরপর দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে কথা বলতে শুরু করলে তিনি আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন। জামায়াতের স্বেচ্ছাসেবক ও চিকিৎসকরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি বাধা দেন। অসুস্থ অবস্থায় মঞ্চে বসেই মাইক হাতে তিনি তার সমাপনী বক্তব্য দেন। জনগণের সেবক হওয়ার প্রতিশ্রুতি মঞ্চের মেঝেতে বসেই জামায়াত আমির বলেন, আল্লাহ যতদিন হায়াত দিয়েছেন, জনগণের জন্য লড়াই অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, আল্লাহ যদি তাদের সুযোগ দেন, তবে তারা মালিক হবেন না, বরং সেবক হবেন। তিনি নির্দেশনা দেন যে, জামায়াত থেকে আগামীতে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হবেন, তারা কোনো সরকারি উপহার গ্রহণ করবেন না, করবিহীন গাড়িতে চড়বেন না এবং নিজ হাতে টাকা চালাচালি করবেন না। জাতীয় সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা নির্দিষ্ট কোনো কাজের জন্য বরাদ্দ পেলে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের কাছে তার বিবরণ তুলে ধরতে বাধ্য থাকবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তারা চাঁদা নেবেন না, দুর্নীতি করবেন না, চাঁদা নিতে দেবেন না এবং দুর্নীতি সহ্য করবেন না। তিনি নিজেকে জামায়াত আমির হিসেবে নয়, বরং ১৬ কোটি মানুষের একজন হয়ে কথা বলতে এসেছেন বলে মন্তব্য করেন। তিনি নিজেকে শিশুদের বন্ধু, যুবকদের ভাই, বয়স্কদের সহযোদ্ধা এবং বোনদের ভাই হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, তাদের মুক্তির জন্য তিনি দায়িত্ব নিয়ে দাঁড়িয়েছেন এবং রাস্তার পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ঘাম ঝরানো ভাইদের জন্য কথা বলতে এসেছেন, কোনো অভিজাত শ্রেণির হয়ে নয়। নতুন পদ্ধতির বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় জুলাই আন্দোলনে শহীদ হতে না পারাটা তার দুর্ভাগ্য উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, তিনি জনগণের দোয়া চান এবং ইনসাফের পক্ষে আগামীতে যে লড়াই ও আন্দোলন হবে, আল্লাহ যেন সেখানে তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করেন।