পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার সুনিশ্চিত করার জোরালো দাবি: জামায়াত নেতৃবৃন্দের বক্তব্য

দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও অখণ্ডতা সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যে ২০০৯ সালের নির্মম পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল চক্রান্তকারী ও অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। ঢাকা শহরে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, পিলখানা Tragedy ছিল মূলত বাংলাদেশ-এর জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি এক সুগভীর আঘাত। এই নির্মম ঘটনার এত বছর পরও অপরাধীদের উপযুক্ত বিচার না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক এবং বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার কোনো সুযোগ নেই।

সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও মূল ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচনের আহ্বান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র শীর্ষ নেতারা উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর অতিক্রান্ত হলেও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য ও নেপথ্যের কারিগরদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। সভায় প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, “যদি এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা না হয়, তবে ভবিষ্যতে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর বারবার আঘাত হানার দুঃসাহস দেখাবে চক্রান্তকারীরা।” তিনি অবিলম্বে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক সুনিশ্চিত বিচার প্রদানের জন্য জোর দাবি জানান।

একইসঙ্গে আলোচনা সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারের নামে প্রহসন তৈরি করে যেসব নির্দোষ বিডিআর সদস্যদের অন্যায়ভাবে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং কারারুদ্ধ রাখা হয়েছে, তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। কারানির্যাতিত ও ক্ষতিগ্রস্ত নিরপরাধ পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের একটি নৈতিক দায়িত্ব বলে তারা মনে করেন।

সেনাবাহিনী ও জাতীয় নিরাপত্তার ওপর অভূতপূর্ব আঘাত

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দলটির অপর এক জ্যেষ্ঠ নেতা উল্লেখ করেন যে, এই ভয়াবহ ঘটনাকে কেবল একটি সাধারণ হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করলে ইতিহাসকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের মতো ঐতিহাসিক সংগ্রামেও এত বিপুল সংখ্যক উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা একসঙ্গে শহীদ হননি, যা পিলখানায় ঘটেছিল। ২০০৯ সালের সেই কালো দিনে দেশের ৫৭ জন অত্যন্ত মেধাবী ও দক্ষ উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল, যা আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার এক গভীর আন্তর্জাতিক ও দেশীয় চক্রান্তের অংশ ছিল।

তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে অভিযোগ করেন যে, সেই চরম সংকটময় মুহূর্তে তৎকালীন সরকারপ্রধান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সামরিক প্রধানদের রহস্যজনক নীরবতা এবং নিষ্ক্রিয়তা তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন ও প্রমাণের সৃষ্টি করে। এই ধরনের জাতীয় বিপর্যয়ে যথাযথ ভূমিকা পালনে ব্যর্থতা কখনোই ক্ষমণীয় হতে পারে না।

স্মরণ, বিশেষ দোয়া ও ভবিষ্যতের রূপরেখা

আলোচনা সভায় সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী ও অন্যান্য মহানগরী নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের যেকোনো রাজনৈতিক ও জাতীয় সংকটকালে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাদের দল রাজপথে সোচ্চার থাকবে। অন্যায় ও অপরাধের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহীদ হওয়া সকল দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তা, মহান মুক্তিযুদ্ধের অমর শহীদ এবং সাম্প্রতিক জুলাই বিপ্লব সহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে প্রাণদানকারী ও আহতদের রুহের মাগফিরাত ও আরোগ্য কামনা করে বিশেষ দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

#পিলখানা_হত্যাকাণ্ড #বাংলাদেশ #রাজনীতি #বিচার_দাবি