রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে শিশুদের মাদক বহন ও পাচারে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং মেয়ে শিশুকে যৌনকর্মে বাধ্য করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পল্লিতে জন্ম নেওয়া অনেকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে মাদকের সেবন ও ব্যবসায় জড়াচ্ছে; এ অর্থের উল্লেখযোগ্য অংশ চলে যাচ্ছে পল্লির পুরুষ সঙ্গী বা “বাবু”দের পকেটে।

কি ঘটছে পল্লিতে

দৌলতদিয়া পল্লিতে প্রায় দেড় হাজার যৌনকর্মী এবং প্রায় ৬০০ শিশুসন্তান রয়েছেন। স্থানীয়দের বর্ণনায় অনেক শিশু ছোটবেলা থেকেই মাদক সেবন ও বিক্রয়ে জড়িত। পল্লির বড়-মধ্যম পর্যায়ের মাদক ব্যবসায়ীরা শিশুদের কাজে লাগিয়ে মাদকের সরবরাহ ও পাইকারি বিক্রি পরিচালনা করছেন।

পল্লিতে প্রায় অর্ধশত মদের দোকান, শতাধিক গাঁজা বিক্রির স্থল ও ভাসমান হেরোইন বিক্রেতা রয়েছে। প্রশাসনের নজরদারির মাঝেও এসব ব্যবসা চলমান রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানায়।

শিশুদের ব্যবহার ও বাধ্যতা

শিশুদের মাদকের কাছে পরিচয় করানো, বহন ও বিক্রিতে ব্যবহার করা হয়। মাদক আনা হয় বাস, ট্রাক ও ট্রেনের মাধ্যমে; এরপর লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট বা রেলস্টেশন থেকে শিশুদের মাধ্যমে পল্লিতে নেওয়া হয় এবং নির্দিষ্ট গলিগুলোতে মজুত করে পাইকারিভাবে বিক্রি করা হয়। এই কাজে শিশুদের বিনিময়ে সামান্য অর্থ বা মাদক দেওয়া হয়।

মুখ্য বিক্রয়স্থল

  • আলেহার গলি
  • মেন্টাল গলি
  • কবরস্থানের গলি

“বাবুরা বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজা সংগ্রহ করে ঘাট এলাকায় নিয়ে আসে। সেখান থেকে আমরা পাড়ায় নিয়ে আসি। এখানে শিশু, নারীসহ প্রায় সবাই মাদক নেয়, যা টাকা পাই তা দিয়ে চলি।”

মেয়েরা একই সঙ্গে তাদের “বাবু”দের চাপের ফলে যৌনকর্মে যুক্ত হচ্ছেন। ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের যৌনকর্মে নিয়োজিত করা আইনত দণ্ডনীয়, তবু কথিত প্রতারণা ও সনদবদলে কমবয়সী মেয়েকে পল্লিতে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কিছু পরিবারের কাহিনী, ছদ্মনাম ব্যাক্তিদের বর্ণনায় দেখা যায় যে কারো পরিবারের বাড়তি আয়ের জন্য বা শক্তি প্রয়োগ করে মেয়ে শিশুকে কাজ করানো হচ্ছে। পল্লির কয়েকজন নারী বলছেন যে তাদের সন্তানের দলভুক্ত করা কঠিন এবং সেফ হোমেও শিশুরা থাকেনা।

প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ও কুশীলব

পল্লিতে কাজ করা স্থানীয় সংস্থা ও সামাজিক কর্মীরা নিরাপদ বাসস্থানের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলছেন। পায়াক্ট বাংলাদেশের দৌলতদিয়া শাখার ম্যানেজার মজিবুর রহমান জুয়েল বলেন সেফ হোম ছাড়া বিকল্প নেই। জেলা সমাজসেবা বিভাগের উপ-পরিচালক রুবাইয়াত মো. ফেরদৌস জানান এনজিওর মাধ্যমে বয়স্ক ভাতা ও শিশু সুরক্ষায় কাজ চলছে এবং প্রশাসন বিষয়গুলো নজরে রাখছে।

রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শরীফ আল রাজীব জানিয়েছেন তারা শিশুদের যৌন পেশায় জড়ানো বা মাদকপাচারের তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পুলিশের মধ্যে জড়িত কেউ থাকলে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অবশেষে: পল্লির শিশুদের নিরাপদ বাসস্থান, শিক্ষা ও প্রশাসনিক তৎপরতা বৃদ্ধির দাবি প্রধানত উঠে এসেছে। স্থানীয় কর্মী ও কিশোর-কিশোরীদের কথায়, এ কথা না হলে শিশুরা মাদকের চক্র ও যৌনকর্মের মধ্যে আটকে যেতে পারে।