রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় এক প্রকাশকের বাসভবনের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং তাকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ হিসেবে আখ্যায়িত করে জনসমাগম বা মব তৈরির অভিযোগে আটক তিন সমন্বয়ককে অবশেষে ছেড়ে দিয়েছে ধানমন্ডি থানা পুলিশ। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদের ব্যক্তিগত জিম্মায় মঙ্গলবার, ২০ মে, তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে বিভিন্ন মহল থেকে নানা মন্তব্য উঠে আসছে। ধানমন্ডি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈনু এই মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রুজু করা হয়নি এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়েরের কোনো ইচ্ছা ছিল না। এই পরিস্থিতিতে আব্দুল হান্নান মাসউদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পরপরই আব্দুল হান্নান মাসউদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি বিস্তারিত পোস্টের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন, যা জনমনে আরও কৌতূহল সৃষ্টি করেছে এবং ঘটনার বিভিন্ন দিক উন্মোচন করেছে। ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আটক আব্দুল হান্নান মাসউদ তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে, মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় ‘বৈবিছাআ-র’ (বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন) আহ্বায়কসহ মোট তিনজনকে মব সৃষ্টির চেষ্টার সময় আটক করা হয়েছিল। এই আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ‘বৈবিছাআ-র’ পরিচয়ে কিছু শিক্ষার্থী ধানমন্ডি থানায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং সেখানে এক ধরনের উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তির জন্য প্রশাসনের উচ্চ পর্যায় থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়। মাসউদ তার পোস্টে আরও জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারের পক্ষ থেকে তাকে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করা হয় যেন তিনি ধানমন্ডি থানায় উপস্থিত হন এবং বিষয়টি সমাধানে সহযোগিতা করেন। কমিশনারের অনুরোধে সাড়া দিয়ে তিনি দ্রুত ধানমন্ডি থানায় পৌঁছান। সেখানে উপস্থিত হয়ে তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। মধ্যস্থতা ও মুক্তি আব্দুল হান্নান মাসউদ তার ফেসবুক পোস্টে আরও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, প্রশাসনের অনুরোধে তিনি আটককৃতদের মুক্তির বিষয়ে মধ্যস্থতা করেন। তার মতে, পুলিশ প্রশাসন আটককৃতদের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা মামলা দায়ের করতে ইচ্ছুক ছিল না। এই কারণে, একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ হিসেবে তার জিম্মায় তিন সমন্বয়ককে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই মধ্যস্থতার ফলে পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত হয় এবং থানায় সৃষ্ট উত্তেজনা প্রশমিত হয়। মাসউদ তার পোস্টে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, আটককৃত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন যিনি ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী একটি মঞ্চের’ ব্যানারে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন স্থানে মব সৃষ্টি করতেন এবং বিশৃঙ্খলা উসকে দিতেন। এই বিষয়টি তিনি আটককৃতদের মুক্তির পর জানতে পারেন। এই তথ্য জানার পর তিনি প্রশাসনের প্রতি পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন এবং এই ধরনের কর্মকাণ্ডের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার বিষয়ে তার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, এই মব সৃষ্টির মূল হোতারা দ্রুত গ্রেপ্তার হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে (ডিএমপি) এই মূল হোতাদের বিষয়ে ইতোমধ্যে বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। তার এই বক্তব্য ঘটনার পেছনের কারণ এবং জড়িতদের সম্পর্কে নতুন দিক উন্মোচন করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধের ইঙ্গিত দিয়েছে। এই পুরো ঘটনাটি রাজধানীর রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আব্দুল হান্নান মাসউদের মধ্যস্থতা এবং তার দেওয়া তথ্য জনমনে বিভিন্ন প্রশ্ন ও কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।