পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনায় বিএনপির চার দফার মহাপরিকল্পনা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের পরিবেশ বিপর্যয় রোধ এবং দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে চার দফার এক বিশাল মহাপরিকল্পনা উন্মোচন করেছে রাজনৈতিক দল বিএনপি। দলটির প্রার্থীরা বর্তমানে সাধারণ ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই বিশেষ পরিবেশবান্ধব কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য সম্বলিত লিফলেট পৌঁছে দিচ্ছেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দেশের হারিয়ে যাওয়া নদী ও খালগুলো পুনঃখনন ও পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সার্বিক কৃষিকাজে এক অভূতপূর্ব বিপ্লব ঘটানো এবং বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব সফলভাবে মোকাবিলা করা।
নদী-খাল খনন ও ব্যারেজ নির্মাণের বিশদ পরিকল্পনা
ঘোষিত লিফলেটে পরিবেশ ও পানি সংরক্ষণে কতগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ও অন্যতম প্রধান পদক্ষেপ হলো দেশব্যাপী অন্তত ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী নতুন করে খনন এবং পুনঃখনন করা। দলটির নীতিপ্রণেতাদের মতে, এই বিস্তৃত জলাশয়গুলো পুনরায় খনন করা হলে নদী ও খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ পুরোপুরি নিশ্চিত হবে, যা ভূগর্ভস্থ সুপেয় পানির ওপর বাড়তি চাপ অনেকটাই কমিয়ে আনবে এবং সারাদেশে কৃষি সেচসুবিধা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করবে।
তাছাড়া, বিশেষ করে দেশের উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ এলাকার বহু বছরের মারাত্মক পানির সংকট স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য “তিস্তা ব্যারেজ উন্নয়ন” এবং নতুন “পদ্মা ব্যারেজ” নির্মাণের মতো বৃহৎ ও যুগান্তকারী অবকাঠামোগত প্রকল্প গ্রহণের সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শুকিয়ে যাওয়া প্রায় মৃত নদী, খাল এবং বিস্তৃত বিলগুলো পুনরায় নতুন প্রাণ ও সজীবতা ফিরে পাবে বলে দলটির নেতৃবৃন্দ দৃঢ়ভাবে আশা প্রকাশ করছেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক রূপরেখা
পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা ও বায়ুদূষণ রোধে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে ২৫ কোটি পরিবেশবান্ধব বৃক্ষরোপণ এবং সেগুলো সঠিক উপায়ে রোপণ পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সর্বাত্মক সবুজ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের সকল নাগরিকের জন্য এক “দূষণমুক্ত তাজা বাতাস” নিশ্চিত করা এবং একটি সুন্দর, সবুজ ও শ্যামল নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদন ও রাষ্ট্র সংস্কার ভাবনা
অন্যদিকে, শহরাঞ্চল ও লোকালয়ের সামগ্রিক পরিবেশ দুর্গন্ধমুক্ত ও বসবাসযোগ্য রাখতে আধুনিক ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে। গৃহস্থালি ও শিল্পবর্জ্যকে পরিচ্ছন্ন পদ্ধতিতে সম্পদে রূপান্তর করতে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্জ্য থেকে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও উন্নত জৈবসার উৎপাদন এবং বিভিন্ন অপচনশীল সামগ্রী রিসাইক্লিং করার বিষটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
বিএনপি-র দলীয় ও দায়িত্বশীল সূত্রে গভীরভাবে জানা গেছে যে, পরিবেশ সুরক্ষা কেন্দ্রিক এই চার দফার বিশেষ পরিকল্পনাগুলো কেবল সাময়িক নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বা প্রচারণার অংশ নয়। বরং এটি তাদের ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামোগত সংস্কারের ৩১ দফার একটি অত্যন্ত মৌলিক, অবিচ্ছেদ্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই টেকসই পরিকল্পনার সুদূরপ্রসারী বাস্তবায়ন দেশের সার্বিক পরিবেশ রক্ষা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকারী ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
#পরিবেশ #রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন