নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের বিশাল মে দিবস সমাবেশ অনুষ্ঠিত

মহান মে দিবস উপলক্ষে ঢাকা-র নয়াপল্টন এলাকা ঐতিহাসিক শ্রমিক সমাবেশের মুখরিত প্রাঙ্গণে পরিণত হয়। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি-র অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উদ্যোগে এই বিশেষ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। দুপুর আড়াইটার দিকে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সূচনা করা হয়। এ সময় পুরো এলাকায় হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ শ্রমিকের উৎসবমুখর উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। সমাবেশের মূল আকর্ষণ হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, যা উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্যোমের সঞ্চার করে।

আবহাওয়ার প্রতিকূলতা কাটিয়ে বিশাল জনসমাগম

সমাবেশের দিন সকাল থেকেই আবহাওয়া চরম প্রতিকূল ছিল। প্রবল বর্ষণের কারণে নয়াপল্টন এবং সংলগ্ন বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে সাময়িক জলজট সৃষ্টি হয়েছিল। তবে দুপুরের আগেই পানি সরে যায় এবং পরিবেশ সহনীয় হয়ে ওঠে। আবহাওয়ার এই অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে কোনো ভাটা পড়েনি। ঢাকা মহানগরীসহ আশপাশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল যেমন গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ এবং মানিকগঞ্জ থেকে হাজার হাজার শ্রমিক ও সাধারণ জনতা সমাবেশস্থলে এসে সমবেত হন। তারা লাল টুপি, টি-শার্ট পড়ে এবং সুসজ্জিত ব্যানার, ফেস্টুন ও ঢোল বাজিয়ে মিছিলে মিছিলে এলাকা কাঁপিয়ে তোলেন।

সুসংগঠিত মঞ্চ প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা জোরদার

সমাবেশ সফল করতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। বিএনপি কার্যালয়ের সামনে নির্মাণ করা হয়েছিল এক বিশাল ও দৃষ্টিনন্দন মঞ্চ, যা লাল কার্পেটে সুসজ্জিত করা হয়। মঞ্চের দুই পাশে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিশাল প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়। উপস্থিত জনতা যাতে দূর থেকে বক্তব্য শুনতে পান, সেজন্য ফকিরাপুল, পল্টন ও কাকরাইল এলাকা জুড়ে প্রায় দেড় শতাধিক সাউন্ড মাইক স্থাপন করা হয়। জনসমাগম ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে সমগ্র এলাকা জুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের পর প্রথম ভাষণ ও ভবিষ্যৎ বার্তা

দীর্ঘদিন দেশের বাইরে অবস্থানের পর দেশে ফিরে আসা তারেক রহমান এই সমাবেশের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। দেশে ফেরার পর এটিই ছিল কোনো শ্রমিক সমাবেশে তার প্রথম সশরীরে অংশগ্রহণ ও ভাষণদান। প্রবীণ নেতাবৃন্দ তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানের উপস্থিতি এই আয়োজনকে বিশেষ মাত্রা দিয়েছে।” সমাবেশটি জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়। বক্তারা দেশের শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায় এবং ভবিষ্যতে একটি সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানান।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #মে_দিবস #সমাবেশ