নারীর মর্যাদা ও ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে বক্তব্য
চট্টগ্রাম নগরের বন্দর স্কুল-কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে জামায়াতে ইসলামী-র আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নারীর অধিকার ও সুরক্ষা এবং যুবসমাজের ক্ষমতায়ন নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা করেন। একটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, এক হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া আর অন্যদিকে মায়ের গায়ে হাত তোলা—এমন সংস্কৃতি দেশের সচেতন নারীসমাজ কখনোই মেনে নেবে না। মা-বোনের আত্মমর্যাদা ও নিরাপত্তার চেয়ে অন্য কোনো কার্ডের মূল্য বেশি হতে পারে না। তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান, মা-বোনের সনাতন সম্মান রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব, আর তাঁদের ওপর আক্রমণ হলে পুরো দেশ প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে উঠবে। কোনো ভয়ভীতি বা রাজনৈতিক ধমক দেখিয়ে তাঁদের সুনির্দিষ্ট আন্দোলন ও রাজনৈতিক গন্তব্য পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
যুবসমাজ ও দেশের ভবিষ্যত নেতৃত্ব
সাম্প্রতিক গণআন্দোলনে তরুণদের ভূমিকার তীব্র প্রশংসা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের অদম্য যুবসমাজ যে ঐতিহাসিক আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল, তাঁদের মূল দাবি ছিল সামাজিক ন্যায়বিচার ও সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা।” তিনি বলেন, যারা জনগণের এই মৌলিক ও ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, সাধারণ জনগণ তাঁদের চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। যুবসমাজ দেশের কাছে কোনো ভিক্ষা বা করুণা চায়নি, এমনকি তারা কোনো বেকার ভাতাও দাবি করেনি। তারা চেয়েছিল উপযুক্ত কাজের সুযোগ এবং দেশ গড়ার সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব। তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে তাঁর দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে যুবসমাজকে নামমাত্র বেকার ভাতা দিয়ে অসম্মানিত করা হবে না। বরং আধুনিক ও মানসম্মত কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা হবে এবং জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও যুবদের সামনের সারিতে এনে দেশের নেতৃত্ব প্রদানে সুযোগ দেওয়া হবে।
নারীর নিরাপত্তা ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ
নারীদের সামগ্রিক নিরাপত্তা বিধানের বিষয়ে বিশদ আলোচনা করে আমির বলেন, ঘরে, গণপরিবহনে, চলাচলে এবং কর্মস্থলে নারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হবে। মা-বোনের সম্মান ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় দল সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করে যাবে। তিনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন যে, তিনি কেবল নিজের রাজনৈতিক দলের একক বিজয় চান না, বরং তিনি সমগ্র ১৮ কোটি মানুষের সার্বিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির মাধ্যমে প্রকৃত জাতীয় বিজয় অর্জন করতে চান। দেশের প্রতিটি মানুষের স্বাধীনতা ও অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত হলেই রাজনৈতিক লক্ষ্য সফল হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন পরিকল্পনা
দেশের প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি চট্টগ্রাম বন্দর প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে একটি বিশেষ সুবিধাভোগী গোষ্ঠী এই বন্দরকে কেন্দ্র করে নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার করেছে। ভবিষ্যতে দেশের সর্ববৃহৎ এই বন্দরকে কেবল সাধারণ জনগণের স্বার্থে এবং জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে পরিচালনা করার সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #চট্টগ্রাম #সংবাদ