নারী ও শিশু নিরাপত্তায় জামায়াতের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের ঘোষণা
ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, নিপীড়ন এবং ধর্ষণের ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠন করবে। ইশতেহার অনুযায়ী, এসব মারাত্মক অপরাধে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর করার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। দলটির নেতারা সুস্পষ্টভাবে জানান, নারী ও শিশুদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা প্রশাসনিক অবহেলা সহ্য করা হবে না।
বিশেষ হেল্পলাইন, ভিকটিম সাপোর্ট সেল ও দ্রুত বিচার পদ্ধতি
রাজনৈতিক দলটি তাদের ইশতেহারে গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেছে যে, বর্তমান বিচারব্যবস্থায় মামলার দীর্ঘসূত্রতা এবং চরম বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সময়মতো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন। এই সংকটাপন্ন পরিস্থিতির সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে অপরাধের তদন্ত, নিরপেক্ষ বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং সাজা কার্যকর করা হবে। এর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীদের জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তায় বিনামূল্যে আইনি সহায়তা, জরুরি চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় মানসিক কাউন্সেলিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান বিশেষ হেল্পলাইন এবং ভিকটিম সাপোর্ট সেলগুলোর কার্যক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করে আরও বেশি শক্তিশালী ও আধুনিকায়ন করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও স্বচ্ছতা জোরদারকরণ
জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্বাচনি অঙ্গীকারে উল্লেখ করেছে, সার্বিক আইনি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নারী ও শিশুবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। প্রতিটি স্থানীয় থানাভিত্তিক ভিকটিম সাপোর্ট ডেস্ক অত্যন্ত শক্ত ভিত্তির ওপর পুনর্বিন্যাস করা হবে। সাধারণ অভিযোগ গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে মামলার চূড়ান্ত রায় নিষ্পত্তি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে শতভাগ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। নেতারা আরও উল্লেখ করেন যে, নারী ও শিশু নির্যাতন কেবল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয় নয়, এটি সমাজে মারাত্মক নৈতিক অবক্ষয়ের প্রকাশ ঘটায়। তাই শুধু কঠোর আইনি ব্যবস্থাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে পরিবার ও সমাজভিত্তিক সচেতনতামূলক ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার
ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে জানানো হয়, একটি নিরাপদ, সর্বজনীন ন্যায়ভিত্তিক এবং সমৃদ্ধ মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যাত্রায় নারী ও শিশুদের সার্বিক সুরক্ষা প্রদানকে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হবে। “ক্ষমতায় গেলে সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় কোনো আপস করা হবে না,” মর্মে দলীয় নেতৃবৃন্দ দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও আইনি সুরক্ষা প্রদানে জামায়াত তাদের নির্বাচনি এজেন্ডায় এই সামাজিক অঙ্গীকারসমূহকে বিশেষভাবে জোর দিয়েছে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #নির্বাচনি_ইশতেহার