জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ‘পতিত স্বৈরাচারের দোসররা’ দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে এবং এর মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। রোববার (২০ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম নিউমার্কেটের হোটেল সৈকতে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, তার দল সারাদেশে পদযাত্রা করছে এবং সকল শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছে। তিনি জানান, এই পরিবারগুলোর কমবেশি একই ধরনের সমস্যা রয়েছে। কিছু এলাকায় সমস্যাগুলো কম, সুযোগ-সুবিধাগুলো পৌঁছেছে বা খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যখন তারা সরকারে ছিলেন, তখন শহীদ পরিবারগুলোকে নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে চাপ তৈরি করা হয়েছিল। তার অভিযোগ অনুযায়ী, সেই উদ্যোগগুলো মাঠপর্যায়ে পৌঁছায়নি বা পৌঁছাতে দেরি করছে এবং সেখানে অনেক ধরনের ঝামেলা এখনও হয়। তিনি বলেন, প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় স্বৈরাচারের দোসররা আছে এবং শহীদ পরিবারগুলো প্রাপ্য সম্মান পাচ্ছে না। এই অভিযোগগুলো তারা বিভিন্ন জায়গায় শুনছেন বলেও তিনি জানান।

শহীদ পরিবারের প্রতি দলের অবস্থান

নাহিদ ইসলাম শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি তার দলের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, তারা কোনো দল হিসেবে তাদের কাছে আসেননি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, অভ্যুত্থানে তারা এবং শহীদ পরিবারগুলোর সদস্যরা একসঙ্গে ছিলেন। সে জায়গা থেকে তিনি দল-মতের ঊর্ধ্বে একটি পরিবার মনে করেন। তার মতে, শহীদদের কোনো দল হয় না; তারা পুরো বাংলাদেশের, দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন।

কল্যাণ সেল ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি

নাহিদ ইসলাম জানান, তার পার্টির পক্ষ থেকে সারাদেশে যাওয়া হচ্ছে এবং সবার কথা শোনা হচ্ছে। দল একটি শহীদ-আহত কল্যাণ সেল গঠন করছে এবং এর অধীনে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। যেখানে তারা যাচ্ছেন, সেখানে পুনরায় সবার নাম্বারগুলো নিচ্ছেন। এটি তারা স্থানীয় একজন সংগঠকের মাধ্যমে করছেন। জুলাইয়ের রাজনৈতিক ঘোষণাপত্র বা সনদ, সেটা তারা সবসময় বলছেন এবং ৩ আগস্টে সেটা নিয়ে তারা ঢাকায় বড় প্রোগ্রাম করবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার যাতে এটা দেয়। সরকারও বলছে ৫ আগস্টের মধ্যে দেবে।

উপদেষ্টা কর্তৃক অসম্মানের অভিযোগ

শহীদদের পরিবারকে উপদেষ্টা কর্তৃক অসম্মানের অভিযোগ প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, কোন উপদেষ্টা তাদের অসম্মান করছেন সেটা তারা জানতেন না। তিনি আশ্বাস দেন যে, তারা সেটা জানবেন এবং প্রতিবাদ জানাবেন। তিনি শহীদ পরিবারের কাছে দোয়া চেয়েছেন যাতে তারা সফল হতে পারেন এবং তাদের দোয়া দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, তারা শহীদ পরিবারের জন্য চেষ্টা করবেন। এ সময় চট্টগ্রামের শহীদদের পরিবারের সদস্যরা ও দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরে তারা রাঙামাটির উদ্দেশে রওনা হন।