নির্বাচনে শান্তি কমিটি গঠনের বিরুদ্ধে বিএনপির তীব্র আপত্তি
ঢাকার আগারগাঁও এলাকায় অবস্থিত নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়ে বিএনপি নেতৃবৃন্দ আগামী জাতীয় নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন স্থানে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার অজুহাতে তথাকথিত শান্তি কমিটি গঠনের যে কোনো ধরনের উদ্যোগের বিরুদ্ধে তাদের জোরালো অবস্থান প্রকাশ করেছেন। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এ ধরনের কোনো বিতর্কিত পদক্ষেপ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিপন্থী এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে তারা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের লিখিত আপত্তি ও অভিযোগ পেশ করেছেন। দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা সিইসিকে এ ধরনের কোনো কমিটি গঠন না করার বিষয়ে সরাসরি পরামর্শ প্রদান করেছেন।
শান্তি কমিটি গঠনের নেপথ্য ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি-র স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানান, দেশের বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকায় নির্বাচনের দিন কিংবা তার পূর্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অজুহাতে ‘শান্তি কমিটি’ গঠন করা হতে পারে বলে তারা খবর পেয়েছেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে শান্তি কমিটি নামটি একটি অত্যন্ত বিতর্কিত ও অপ্রিয় শব্দ হিসেবে চিহ্নিত। যদিও দেশের সাধারণ জনগণ সর্বদাই শান্তিকামী ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আগ্রহী, তবুও অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে এই বিশেষ নামটির সাথে জনগণের নেতিবাচক স্মৃতি জড়িয়ে আছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচন কমিশনের সাথে আলাপের সময় ইসি স্পষ্ট করেছে এ বিষয়ে তাদের পূর্ব কোনো পরিকল্পনা বা সিদ্ধান্ত ছিল না। কমিশন এই ধরণের কোনো কমিটি করার বিষয়ে সম্মতি জানায়নি। নজরুল ইসলাম খান বলেন, তারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় যাদের উল্লেখ আছে, একমাত্র তাদেরকেই নির্বাচনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
বহিরাগত নেতাকর্মীদের অবস্থান সংক্রান্ত দাবি
বৈঠকে বিএনপি-র পক্ষ থেকে স্কাউটদের নির্বাচনি দায়িত্বে যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। নজরুল ইসলাম খান উল্লেখ করেন যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাইরে অনভিজ্ঞ বা অন্য কোনো গোষ্ঠীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হলে তা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত করতে পারে। নির্বাচন কমিশন এই যুক্তির গ্রহণযোগ্যতা স্বীকার করেছে এবং বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে।
এছাড়া, নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা নিজেদের নির্বাচনি এলাকার বাইরে গিয়ে অন্য নির্বাচনি এলাকায় অবস্থান নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে কমিশনে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। যদিও আইনে এ বিষয়ে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই, তবুও স্থানীয় না হওয়ায় তারা আইনশৃঙ্খলার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে বিএনপি দাবি জানিয়েছে যেন নির্বাচনের অন্তত দুই দিন আগে বহিরাগত নেতাকর্মীদের সেই এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে নির্বাচনি মাঠে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ না থাকে।
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশা
বিএনপি নেতারা আশা প্রকাশ করেন যে, কমিশন তাদের পেশ করা যৌক্তিক সুপারিশসমূহ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে এবং একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সকল দলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা না গেলে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে তারা মনে করেন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন #বিএনপি #সংবাদ