বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) এমনকি ফেরেশতা বসিয়ে দিলেও একটি ভালো নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম হবে না। তার মতে, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এই মন্তব্যটি তিনি মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) সকালে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিনিধিদের এক বৈঠকে করেন।

বৈঠকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে ৩১ দফা লিখিত সুপারিশ পেশ করা হয়। সাইফুল হক জানান, নির্বাচন কমিশন একটি খসড়া আচরণবিধি তৈরি করছে, যা এখনও জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি। এই খসড়া আচরণবিধি প্রসঙ্গে বৈঠকে তাদের দল বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মতামত উপস্থাপন করেছে। তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, নির্বাচন কমিশন যেন একতরফাভাবে আচরণবিধি চূড়ান্ত না করে। বরং, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে শলাপরামর্শ করে এবং তাদের বিচার বিবেচনা আমলে নিয়ে যদি এটি প্রণয়ন করা হয়, তাহলে এর একটি নির্দিষ্ট গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হবে এবং এটি কার্যকরও হবে।

নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা ও জবাবদিহিতা

সাইফুল হক আরও উল্লেখ করেন যে, তার দল একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতার যথাযথ প্রয়োগ দেখতে চায়। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসির ক্ষমতা কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও তারা সুনির্দিষ্ট পরামর্শ হাজির করেছেন। একইসঙ্গে, তারা নির্বাচন কমিশনকে একটি জবাবদিহিতার কাঠামোর মধ্যে আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এই প্রসঙ্গে তারা প্রস্তাব করেছেন যে, যদি ইসির কার্যক্রমে কোনো ব্যত্যয় ঘটে, তবে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের’ মাধ্যমে আইনানুগভাবে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন পরিচালনায় ডিসি, এসপি, ওসিসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা থাকে এবং নির্বাচনী ব্যবস্থায় রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি নির্বাচন কমিশনের জনবল বাড়ানোর এবং সংস্থাটির নিজস্ব কর্মকর্তাদের আরও বেশি দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশও করেছে। সাইফুল হক পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, এখানে যদি ফেরেশতাও বসিয়ে দেওয়া হয়, তারপরও ইসি কোনো ভালো নির্বাচন করতে পারবে না। তিনি এটিকে একটি ‘যৌথ অর্কেস্ট্রার’ সঙ্গে তুলনা করেন, যেখানে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচনের রোডম্যাপ

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস করেন যে, বর্তমানে যে অন্তর্বর্তী সরকার রয়েছে, তারা অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন করতে আগ্রহী। যেহেতু তাদের কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাত থাকার কথা নয়, তাই অন্তর্বর্তী সরকারের সর্বাত্মক আন্তরিকতা, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল এবং ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণের সচেতন ভূমিকার মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ সংসদের একটি অর্থপূর্ণ ও কার্যকর নির্বাচন দেখতে পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সাইফুল হক আরও জানান যে, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ভোটার তালিকার কাজ শেষ করেছে। তিনি বলেন, তারা জানতে পেরেছেন যে, নির্বাচন কমিশন ডিসেম্বর মাসকে লক্ষ্য ধরে নিয়ে তাদের প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি নির্বাচন কমিশনকে পরামর্শ দিয়েছে যে, রাজনৈতিক দল এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে পরামর্শ ও আলাপ-আলোচনা করে অচিরেই নির্বাচন সম্পর্কে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করা উচিত। একইসঙ্গে, নির্বাচনের সূচি বা শিডিউল নির্বাচন কমিশনকেই ঘোষণা করতে হবে।