প্রবীণ আলেম সরওয়ার কামাল আজিজীর ইন্তেকাল
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি-র কেন্দ্রীয় আমির, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর সাবেক নায়েবে আমির এবং চট্টগ্রাম-এর প্রবীণ আলেম মাওলানা সরওয়ার কামাল আজিজী পরলোকগমন করেছেন। চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের নিজ বাসভবনে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। তার এই আকস্মিক প্রয়াণে দেশের আলেম সমাজ এবং রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, সাত মেয়ে এবং অগণিত গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষাগত যোগ্যতা
সরওয়ার কামাল আজিজী ১৯৪৭ সালে লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া গ্রামের নয়াপাড়ায় এক ঐতিহ্যবাহী সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম আলহাজ হাকিমবক্স চৌধুরী পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় কওমি মাদরাসায় প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার পর তিনি ঐতিহ্যবাহী আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিিয়ায় ভর্তি হন এবং সেখান থেকে দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি তিনি সাধারণ শিক্ষায়ও উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে জ্ঞানের পরিধি প্রসারিত করেন।
ছাত্র রাজনীতি ও দ্বীনি শিক্ষার প্রসার
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সমাজ ও রাজনীতির প্রতি অত্যন্ত সচেতন ছিলেন। সে সময় তিনি জমিয়তে তোলাবায়ে আরাবিয়া মুসলিম ছাত্র পরিষদের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। শিক্ষা জীবন শেষ করে তিনি দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে শুরু করেন। তিনি পদুয়া আল জামিয়াতুল আনোয়ার হেমায়েতুল ইসলাম মাদরাসাসহ একাধিক দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় সরাসরি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি শাহ ওয়ালীউল্লাহ একাডেমি, চট্টগ্রাম-এর পরিচালক এবং জামিয়াতুল আনোয়ার হেমায়েতুল ইসলাম কওমি মাদরাসা, পদুয়ার মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেন।
রাজনৈতিক জীবন ও সাংগঠনিক ভূমিকা
তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি-র বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক, যুগ্ম আহ্বায়ক এবং পরবর্তীতে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত মজলিসে শুরার ঐতিহ্যবাহী সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তিনি দলের কেন্দ্রীয় আমির হিসেবে নির্বাচিত হন। “তিনি আজীবন দেশ ও জাতির কল্যাণে এবং ইসলামি মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করে গেছেন,” বলে স্মরণ করেন রাজনৈতিক সহকর্মীরা।
ইসলামি রাজনীতির পাশাপাশি অরাজনৈতিক দ্বীনি সংগঠন হিসেবে পরিচিত হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর নায়েবে আমির হিসেবেও তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তার মতো একজন অভিভাবকতুল্য ব্যক্তিত্বকে হারিয়ে আলেম সমাজ গভীরভাবে শোকাহত। দেশের বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের শীর্ষ নেতারা পৃথক শোকবার্তায় তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং তার শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #ইসলাম #সংবাদ