পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের অনুপস্থিতিতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবিরের দায়িত্ব বৃদ্ধি করা হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের বাইরে অবস্থানকালে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির তাঁর নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরেও অন্যান্য সব বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সহায়তা করবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে রোববার জারি করা একটি পরিপত্রে এই তথ্য বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে। এই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে যাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দীর্ঘ অনুপস্থিতির সময়ে মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন কাজ এবং দেশের বৈদেশিক নীতির ধারাবাহিকতা কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই বজায় থাকে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় রাখতে অপরিহার্য। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬ অনুযায়ী প্রতিমন্ত্রীদ্বয়ের নিকট পূর্বে অর্পিত নির্দিষ্ট দায়িত্বসমূহের বাইরেও হুমায়ুন কবির অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক ব্যস্ততার কারণে সৃষ্ট শূন্যতা পূরণ করা এবং মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে গতিশীলতা ও দক্ষতা বজায় রাখা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান রোববার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন। তিনি আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য নিউইয়র্কে অবস্থান করবেন। তাঁর এই দীর্ঘ অবস্থানকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে অতিরিক্ত ক্ষমতা ও দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে, যা দেশের কূটনৈতিক কার্যক্রমের নিরবচ্ছিন্নতা নিশ্চিত করবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক দায়িত্ব খলিলুর রহমান এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টি (বিএনপি) সরকার গঠনের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর গত ২ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক গোপন ব্যালটে তিনি সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকৌরিসকে ৯৯-৯১ ভোটে পরাজিত করে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। এই নির্বাচন প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে এবং দেশের কূটনৈতিক সক্ষমতাকে তুলে ধরেছে। তিনি আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এক বছরের জন্য এই মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন। এই এক বছর মেয়াদে তিনি নিউইয়র্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করবেন। তাঁর এই নতুন আন্তর্জাতিক ভূমিকা দেশের বৈদেশিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং বিশ্ব মঞ্চে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার রদবদলে গত ২১ আগস্ট হুমায়ুন কবিরকে টেকনোক্র্যাট হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই রদবদলের মাধ্যমে সরকারের কার্যক্রমে নতুন গতি আনার এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির চেষ্টা করা হয়। একই সময়ে শামা ওবায়েদ ইসলামও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পদে বহাল থাকেন, যা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং দায়িত্ব সুষমভাবে বণ্টনে সাহায্য করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গত ২৩ আগস্ট জারি করা একটি পৃথক পরিপত্রে হুমায়ুন কবিরকে প্রতিমন্ত্রী-১ এবং শামা ওবায়েদ ইসলামকে প্রতিমন্ত্রী-২ হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। এই দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর করা হয়। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও পূর্ববর্তী দৃষ্টান্ত উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগেও এমন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনের দৃষ্টান্ত রয়েছে। প্রায় তিন দশক আগে ১৯৮৬-৮৭ মেয়াদে সাবেক স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর সেই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক ছিল এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভূমিকা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়েছিল। বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের এই দায়িত্ব গ্রহণ সেই ঐতিহ্যেরই ধারাবাহিকতা বহন করে এবং দেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়।