বাউল আবুল সরকারের উপযুক্ত শাস্তি ও সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশের দাবি জামায়াতের
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, বাউল আবুল সরকার পলাতক আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ও উপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। দলটি অভিযোগ প্রকাশ করে বলেছে, আবুল সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে দেশের কতিপয় স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটানো এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির গভীর অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। জাতীয় স্থিতিশীলতা রক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় এ জাতীয় ধ্বংসাত্মক অপতৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য জামায়াতে ইসলামী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিকট অত্যন্ত জোর দাবি জানাচ্ছে।
দলটি আরও হুশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়েছে যে, যদি দেশে এই ধরনের নৈরাজ্য অব্যাহত থাকে এবং জনগণের ধৈর্যের সীমা অতিক্রম করে, তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটার চরম ঝুঁকি রয়েছে। মগবাজার এলাকায় অবস্থিত আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার বার্ষিক সম্মেলনে বিস্তারিত আলোচনার পর বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব মূল বক্তব্য দেশবাসীর সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়। সম্মেলনে সার্বিক সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সম্মানীয় আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
সুষ্ঠু নির্বাচন, গণভোট এবং পিআর পদ্ধতির প্রবর্তন সংক্রান্ত স্পষ্ট দাবি
সম্মেলনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, সরকার আগামী বছরের প্রথম দিকে একই দিনে গণভোট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা নিলেও এখনও পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারেনি। জামায়াতে ইসলামী দৃঢ়ভাবে মনে করে, একটি সম্পূর্ণ অবাধ, স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে সংখ্যানুপাতিক বা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।
দলটি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে যে, নির্বাচনে কালো টাকা ও পেশিশক্তির প্রভাব চিরতরে নির্মূল করতে হবে। একইসাথে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বেই গণভোট সম্পন্ন করা এবং আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি সহ সাবেক ১৪ দলীয় জোটের সকল ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার দাবি জানানো হয়েছে।
বিভিন্ন জেলায় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার কড়া প্রতিবাদ ও নিন্দা
বিজ্ঞপ্তিতে অতি সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিরোধী কর্মীদের ওপর সংঘটিত সহিংস হামলার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী এলাকায় একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলে বিএনপি-র সশস্ত্র কর্মীদের প্রকাশ্য হামলায় প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় স্থানীয় সংবাদকর্মীও রেহাই পাননি। থানা প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্পষ্ট পক্ষপাতিত্বের মারাত্মক অভিযোগ তুলেছে দলটি।
এছাড়া চাঁদপুর, নোয়াখালী, জামালপুর, ফেনী, নওগাঁ, লক্ষ্মীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মৌলভীবাজার, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট এবং ঝিনাইদহ সহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সহিংস ঘটনার চরম নিন্দা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, “এমন সংকটময় ও সংঘাতপূর্ণ পরিবেশে কোনোভাবেই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা যায় না।” দেশের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে এসব অপকর্ম কঠোর হস্তে দমন করার আহ্বান জানানো হয়।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন #সংবাদ