বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে আবারও ‘পুরোনো খেলা’ শুরু হয়েছে। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশংসা করে বলেন, জিয়াউর রহমান বাঙালিদের পার্বত্য এলাকায় পুনর্বাসিত করে সেখানে জনসংখ্যার ভারসাম্য এনেছিলেন, যার ফলে এখন আর তারা ভারতের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে পারছে না। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের অখণ্ডতা রক্ষা করেছেন এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পতাকা সর্বদা সমুন্নত রেখেছেন। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় নির্বাচন ও প্রশাসনের ভূমিকা
হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, যারা নির্বাচন হতে দেবে না, তাদের উদ্দেশে তিনি বলতে চান বিএনপি কোনো দুর্বল দল নয়। তিনি সরকার ও আওয়ামী লীগকে বার্তা দেন যে, জিয়াউর রহমান না থাকলেও তার দল বিএনপি এখনো টিকে আছে এবং ফেব্রুয়ারি মাসেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রশাসনের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, স্বৈরাচারের দোসররা এখনো প্রশাসনে বসে আছে এবং তাদের সরানোর ব্যবস্থা হয়নি। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, এই দোসররা থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে বর্তমান প্রশাসন ব্যবস্থাকেও নিরপেক্ষ করার দাবি জানান।
আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি ও এনসিপি
আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এই পদ্ধতিতে নির্বাচন হতে পারে না, কারণ দেশের জনগণের এ সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই। যারা পিআর নিয়ে আন্দোলন করছেন, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা যেন জনগণের কাছে যান এবং তাদের ইশতেহারে এই ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন। জনগণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিলে তারা এই ব্যবস্থা চালু করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, “কিন্তু এভাবে ইউরোপ-আমেরিকা থেকে আগত বুদ্ধিজীবীদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে এ ধরনের সিস্টেম করতে যাওয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হবে। দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি কখনই এটি সহ্য করবে না। এভাবে জনগণের ওপর অত্যাচার করে নিজেদের স্বার্থে, নিজস্ব দলীয় স্বার্থে অদ্ভুত নির্বাচনী ব্যবস্থা যার সঙ্গে দেশের জনগণ পরিচিত নয়, এই ব্যবস্থা আমরা চালু হতে দিতে পারি না।”
হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এনসিপিকেও আওয়ামী লীগের মতো একই রোগে আক্রান্ত বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এনসিপির ছাত্ররাও শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটানোর দাবি করে। তিনি উল্লেখ করেন, ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের দেড় মাসের সংগ্রামে বিএনপির ৫৮৮ জন সদস্য জীবন দিয়েছেন। তিনি এনসিপির ছাত্র প্রতিনিধিদের ডাকসু নির্বাচনে ১০০ ভোটও না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তাদের পিআর ছাড়া নির্বাচন হতে না দেওয়ার দাবির সমালোচনা করেন।
অধ্যাপক ইউনূসের প্রতিনিধিদল ও সরকারি ব্যয়
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, তিনি দেশের গৌরব হলেও রাষ্ট্র পরিচালনায় সফলতার মুখ দেখাতে পারেননি। তিনি অধ্যাপক ইউনূসের বড় প্রতিনিধিদল নিয়ে জাতিসংঘে যাওয়ার সমালোচনা করে এটিকে জনগণের করের অর্থের অপচয় বলে অভিহিত করেন। তিনি শেখ হাসিনার বিদেশ সফর ও প্রতিনিধিদলের আকার নিয়েও সমালোচনা করেন। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার পতনের পর কিছুটা প্রেস ফ্রিডম এসেছে, যার ফলে সরকার ও সরকার প্রধানরা কী করে তা জানা যাচ্ছে এবং আওয়ামী লীগের ‘লুণ্ঠন’কে সীমাহীন উল্লেখ করে এ ধরনের কাহিনী মাঝে মাঝে বেরিয়ে আসছে।
জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি সৈয়দ ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে এই আলোচনা সভায় বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।