মার্কিন সেনাবাহিনীর বেসামরিক প্রধান ড্যানিয়েল ড্রিসকল পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। কয়েক মাস ধরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে তাঁর টানাপোড়েন চলছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ড্রিসকলের পদত্যাগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। হোয়াইট হাউস পদত্যাগের বিষয়টি অস্বীকার করেনি।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, সেনাবাহিনীর মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা স্ট্রং এগেইন’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ড্রিসকল অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করেছেন। কেলি আরও উল্লেখ করেন, ঐতিহাসিক সামরিক অভিযানগুলোর সময় ড্রিসকল অসাধারণ নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি ও যুদ্ধ সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব বাড়িয়েছেন। তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে আলোচনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহায়তা করেছেন বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে টানাপোড়েন

একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ড্রিসকলকে নিজের জন্য হুমকি হিসেবে দেখতেন। তিনি আরও জানান, হেগসেথ দীর্ঘদিন ধরেই ড্রিসকলকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সঙ্গে ড্রিসকলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তাঁকে পদচ্যুত করা হেগসেথের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে যে, ড্রিসকলের পদত্যাগপত্র হোয়াইট হাউস গ্রহণ করেছে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রটি রয়টার্সকে আরও জানায়, ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে মার্কিন সেনাবাহিনীর ‘রূপান্তর ও প্রস্তুতি’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন ড্রিসকল। তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, একের পর এক জেনারেলকে বরখাস্ত করে হেগসেথ এসব উদ্যোগে বাধা দিচ্ছেন। ড্রিসকলের নিয়োগ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে অনুমোদন করা হয়েছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দ্রুত ও কম খরচে সেনাবাহিনীর জন্য অস্ত্র সংগ্রহের উদ্যোগ নেন। তিনি বড় বড় অস্ত্র কোম্পানিগুলোর সমালোচনাও করেছিলেন। মার্কিন আর্মি সেক্রেটারির প্রধান দায়িত্ব হলো সেনাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা।

জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পদত্যাগ ও বরখাস্ত

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের নেতৃত্বাধীন পেন্টাগন থেকে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এর আগেও সরে গেছেন। এই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন হলেন ড্যানিয়েল ড্রিসকল। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সহপাঠী ছিলেন। এর আগে গত এপ্রিলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ র‍্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করেন। এরপর জুনে ইউরোপ ও আফ্রিকায় মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল ক্রিস্টোফার ডোনাহু হঠাৎ পদত্যাগ করেন। হেগসেথ আরও কয়েকজন জেনারেল ও অ্যাডমিরালকে সরিয়ে দিয়েছেন, যাদের মধ্যে নৌপ্রধানও রয়েছেন। একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ র‍্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করার ঘটনায় ড্রিসকল হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। এরপর হেগসেথের প্রতি তাঁর অসন্তোষ আরও বেড়ে যায়।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

সামরিক বাহিনীর বাইরেও ড্যানিয়েল ড্রিসকল আলোচিত ছিলেন। রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধে মস্কো আর কিয়েভের সঙ্গে আলোচনায় তাঁকে যুক্ত করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেনাবাহিনীর কোনো কর্মকর্তার জন্য এ ধরনের কূটনৈতিক দায়িত্ব পাওয়া একটি বিরল ঘটনা। ২০২৪ সালে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারে উপদেষ্টা হিসেবেও তিনি কাজ করেন। পেন্টাগন গত এপ্রিলে ঘোষণা করেছিল যে, নেভি সেক্রেটারি জন ফেলান পদ ছাড়ছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের সময় মার্কিন সামরিক বাহিনীর কোনো শাখার প্রধান হিসেবে তিনিই প্রথম দায়িত্ব ছেড়ে দেন।

বর্তমানে ড্রিসকলের পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে কিনা এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসবে কিনা, তা এখনো অনিশ্চিত। এই ঘটনা মার্কিন সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে চলমান অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়।