ঘুষের অভিযোগ জানাতে ‘ঘুষ.সাইট’ নামের একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে আলোচনায় আসা ১৭ বছর বয়সী শাহেদ শরীফের খোঁজ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। মঙ্গলবার ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন নিজ কার্যালয়ে শাহেদকে ডেকে নিয়ে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সরকারি সহযোগিতার প্রয়োজন আছে কি না, সে বিষয়ে আলোচনা করেছেন। প্রয়াত শিক্ষিকা মায়ের পেনশনের টাকা তুলতে গিয়ে পদে পদে ঘুষ দাবির প্রতিবাদে শাহেদ শরীফ এই ওয়েবসাইটটি তৈরি করেন। এই প্ল্যাটফর্মে অসংখ্য মানুষ তাদের ঘুষ সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে শুরু করেন। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর শাহেদের বাবাকে ডেকে পেনশনের কাগজপত্র দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এবং অনিয়মে জড়িত দুই কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও শাহেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ‘ঘুষ.সাইট’-এ মোট ১১ হাজার ৬৬৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে, যেখানে ঘুষ হিসেবে দাবি করা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫৭ কোটি ২ লাখ টাকা।

সরকারি পদক্ষেপ ও শাহেদের প্রত্যাশা

শাহেদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ময়মনসিংহ সিটি প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন জানান, প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে থাকেন এমন একজন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদটি তাকে পাঠান। তিনি শাহেদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ‘ঘুষ.সাইট’ নিয়ে তার বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠাবেন। মো. রুকুনোজ্জামান রোকন ‘ঘুষ.সাইট’ উদ্যোগটিকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন,

আমাদের মনে হয়েছে, রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য কিছু করতে চাওয়া এমন তরুণদের উৎসাহিত করা দরকার। শাহেদের মধ্যে আমরা সেই আগ্রহ ও স্পিডটা দেখেছি।

‘ঘুষ.সাইট’ ব্যাপক সাড়া ফেলায় শাহেদ শরীফ উচ্ছ্বসিত। সিটি প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি জানান, মূলত ‘ঘুষ.সাইটের’ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সরকার কীভাবে এই উদ্যোগকে সহযোগিতা করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার মূল বার্তা হলো—সরকারের কাছ থেকে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা পেলে তিনি উপকৃত হবেন। শাহেদ শরীফ আরও বলেন, তিনি এখনো শিক্ষার্থী এবং ‘ঘুষ.সাইট’ ও পড়াশোনা একসঙ্গে চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার অনুরোধ, কাজের চাপ কিছুটা কমানোর ক্ষেত্রে যদি কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা বা স্বীকৃতি পাওয়া যায়, তাহলে তার জন্য কাজটি এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একজন যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। ওই কর্মকর্তা ‘ঘুষ.সাইট’ ও মায়ের পেনশনের বিষয়টি জানতে চেয়েছেন। শাহেদ মনে করেন, সরকার এই বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে।

তদন্ত কমিটি গঠন

শাহেদ শরীফের মায়ের মৃত্যুর পর সরকারি পাওনা পেতে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির প্রধান উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিকদার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। অন্য দুই সদস্য হলেন আশীষ কুমার তরফদার ও মো. সাদ্দাম হোসেন। তদন্ত কমিটির প্রধান জানান, ‘ঘুষ.সাইট’ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখতে কমিটি করা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে। ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আজমতপুর পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমেনা খাতুনের মৃত্যুর পর তার স্বামী মো. শরীফুল ইসলাম কেন যৌথ বিমা, কল্যাণ ভাতা ও দাফন-কাফনের অনুদান পাননি—এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি গঠন করা হয়েছে।