বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন তুলেছেন, বিএনপিকে কার কথায় হিংসা করা হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, বিএনপি হিংসার রাজনীতি করে না এবং তাদের আন্দোলনকে হিংসাত্মক আখ্যা দিয়ে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা সঠিক নয়। মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন, যেখানে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন বিষয়ে তার দলের অবস্থান তুলে ধরা হয়।
জয়নুল আবদিন ফারুক তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, যে সরকার (আওয়ামী লীগ) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে মামলার আসামি বানিয়েছিল এবং তাকে আদালতে হাজিরা দিতে বাধ্য করেছিল, সেই সরকারকেই এখন তিনি সহ্য করছেন। অথচ বিএনপির প্রতি হিংসা পোষণ করা হচ্ছে, যা তার কাছে বোধগম্য নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন এমন দ্বিমুখী আচরণ করা হচ্ছে এবং এর পেছনে কী কারণ রয়েছে। তার মতে, বিএনপির রাজনীতিতে হিংসার কোনো স্থান নেই এবং তারা সবসময় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পক্ষে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রতি অভিযোগ
বিএনপির এই নেতা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আরও অভিযোগ করে বলেন, নোবেলজয়ী গ্রামীণ ব্যাংককে সংসদে হেয় করা হয়েছে শেখ হাসিনার দ্বারা। তিনি আরও দাবি করেন যে, বর্তমান সরকার অধ্যাপক ইউনূসকে অপমান করেছে। এমন পরিস্থিতিতে অধ্যাপক ইউনূস কীভাবে সেই সরকারের পক্ষে কথা বলছেন, তা নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। জয়নুল আবদিন ফারুক প্রধান উপদেষ্টাকে সতর্ক করে বলেন যে, আওয়ামী লীগের দোসররা তার চারপাশে সক্রিয় রয়েছে এবং তাদের বিষয়ে তাকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি মনে করেন, এই দোসররা অধ্যাপক ইউনূসের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং তাকে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে।
সরকারের সমালোচনা
জয়নুল আবদিন ফারুক তার বক্তব্যে শেখ হাসিনার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, শেখ হাসিনা হিংসা করে খালেদা জিয়াকে জেলে রেখেছেন এবং তাকে চিকিৎসকের কাছে পর্যন্ত যেতে দেননি। ফারুকের মতে, এই ঘটনা সরকারের অমানবিকতা এবং প্রতিহিংসার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। তিনি বলেন, একজন অসুস্থ সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে তার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, যা কোনো সভ্য সমাজে কাম্য নয়। এই ধরনের আচরণ দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এছাড়াও, জয়নুল আবদিন ফারুক টিউলিপের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চান, যদি টিউলিপ নিজেকে বাংলাদেশি না বলেন, তবে কীভাবে তাকে নাগরিকত্ব, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জমি দেওয়া সম্ভব হলো। তিনি এই প্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ করেন এবং এর পেছনে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য আছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এই বিষয়টি দেশের আইন ও বিধিবিধানের সঙ্গে কতটা সঙ্গতিপূর্ণ, তা নিয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।
জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, “যে সরকার আপনাকে মামলার আসামি বানিয়েছে, আদালতে হাঁটিয়ে নিয়ে গেছে, সেই সরকারকে এখন সহ্য করছেন। কিন্তু বিএনপির বিরুদ্ধে হিংসা করছেন কেন?”
প্রতিবাদ সভায় জাতীয়তাবাদী নবীন দলের সভাপতি হুমায়ুন আহমেদ তালুকদার সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু এবং দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এই সভা থেকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। বক্তারা দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অঙ্গীকার করেন।