জোটসঙ্গীদের যথাযথ মূল্যায়ন ও অংশগ্রহণের আহ্বান: গণঅধিকার পরিষদ

রাজধানীর বনানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গণঅধিকার পরিষদ-এর উচ্চতর পরিষদের সদস্য আবু হানিফ বলেছেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে যেসকল শরিক দল পাশে ছিল, তাদের অবদান অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। নতুন সরকার পরিচালনায় জোট শরিকদের উপযুক্ত স্থান, যথাযথ মূল্যায়ন এবং কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত আবশ্যক। যদি শরিকদের কেবল প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করে পরে রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষা করা হয়, তবে সেই ঐক্য বা জোট কখনো দীর্ঘস্থায়ী বা মজবুত হতে পারে না।

দীর্ঘমেয়াদী রাজনীতির স্বার্থে বিএনপি ও শরিকদের সম্পর্ক

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিএনপি যদি দেশে দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে চায়, তবে জোটসঙ্গী দলগুলোর সম্মান ও মর্যাদা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের সক্রিয় মতামতকে প্রাধান্য দিতে হবে, অন্যথায় ভবিষ্যতে দলটি মিত্রহীন হয়ে পড়ার বড় ধরনের ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে। বনানী থানা কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।

তিনি আরও যোগ করেন, তৎকালীন স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজপথের কঠিন আন্দোলনে গণঅধিকার পরিষদ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী ভূমিকা পালন করেছে। আন্দোলন চলাকালে স্থানীয় ছাত্র, যুব, শ্রমিক এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছিলেন। বর্তমানে রাজপথের প্রতিবাদের চেয়ে জনগণের দোরগোড়ায় সরকারের নানা সুবিধা ও সেবা পৌঁছে দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

জাতীয় সরকার গঠন ও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির প্রত্যাশা

আবু হানিফ উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক সংকটময় মুহূর্তে জোটভুক্ত দলগুলো সর্বদা বিএনপি-র পাশে ছিল। আন্দোলন চলাকালে রাজপথে একটি রূপরেখা তৈরি করে জাতীয় সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। জনগণ ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এখন সেই প্রতিশ্রুতির পূর্ণ বাস্তবায়ন দেখতে চায়।

তিনি দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা আশা করি গণঅধিকার পরিষদ-এর সভাপতি নুরুল হকসহ জোটের অভিজ্ঞ ও যোগ্য নেতাদের দ্রুত দেশের নতুন মন্ত্রিসভা এবং সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।” এর মাধ্যমে জোটবদ্ধ রাজনীতির মূল চেতনা প্রতিফলিত হবে।

সাংগঠনিক সভার সভাপতিত্ব ও উপস্থিত নেতাদের বক্তব্য

উক্ত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও পুরো কার্যক্রম সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর উত্তর গণঅধিকার পরিষদ-এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ। সভায় উপস্থিত থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ বক্তব্য তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য জিয়াউর রহমান, রবিউল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম, সবুজ মিয়া, এবং ছাত্র অধিকার পরিষদ-এর নেতা নেওয়াজ খান বাপ্পিসহ আরও অনেকে। তারা সবাই ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সচেতনতা ও জোটগত ঐক্য বজায় রাখার প্রতি বিশেষ জোর দেন।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #গণঅধিকার_পরিষদ #বিএনপি