বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম অভিযোগ করেছেন যে প্রশাসনের একটি প্রভাবশালী অংশ বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি এই দায়িত্বজ্ঞানহীন চক্রটিকে এখনই চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তবে দেশের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে। সম্প্রতি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সৃষ্ট দীর্ঘ যানজট এবং এর ফলে জনগণের সীমাহীন দুর্ভোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।

গত শুক্রবার রাত থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা থেকে নারায়ণগঞ্জের আষাড়িয়ারচর পর্যন্ত টানা ৩২ ঘণ্টার এক তীব্র যানজটে পথঘাট স্থবির হয়ে পড়েছিল। এই ভয়াবহ যানজটের কারণে সাধারণ যাত্রীরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হন। অ্যাম্বুলেন্সে আটকা পড়ে রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে এবং সময়মতো বিমানবন্দরে পৌঁছাতে না পেরে অনেক প্রবাসী তাঁদের নির্ধারিত উড়োজাহাজ মিস করেন। এই ঘটনা জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি করে।

যানজট পরিস্থিতি ও কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতা

এই জনদুর্ভোগের কারণ অনুসন্ধানে জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং হাইওয়ে পুলিশ ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি ভার্চ্যুয়াল সভা করেন। সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম জানান, তিনি হুইপ মহোদয়ের পাশে বসে পুরো মিটিংটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এত বড় একটি ঘটনা এবং মানুষের অসীম দুর্ভোগের পরও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা বা দায়বদ্ধতা ছিল না, যা অত্যন্ত বিস্ময় ও চরম হতাশার কারণ।

এই পরিস্থিতি দেখে কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার উন্নয়ন সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান চরম ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেন। শাহাদাত হোসেন সেলিম উল্লেখ করেন যে, হুইপ মন্তব্য করেছেন, সেতু সংস্কারের আগে আগাম গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে সাধারণ মানুষকে অবহিত করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। তিনি আরও বলেন, সংবাদপত্র, টিভি স্ক্রল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগে থেকে প্রচার চালানো হলে যাত্রীরা বিকল্প পথ ব্যবহার করতে পারতেন এবং এই ভয়াবহ পরিস্থিতি এড়ানো যেত।

সমন্বয়হীনতা ও শাস্তির দাবি

ফেসবুক পোস্টে শাহাদাত হোসেন সেলিম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়হীনতা এবং জবাবদিহি না থাকাকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও চরম দায়িত্বহীনতার অপরাধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কালবিলম্ব না করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি। তাঁর মতে, এই ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য।

উল্লেখ্য, শাহাদাত হোসেন সেলিম পূর্বে বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান ছিলেন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন। গত আগস্ট মাসেও তিনি একটি ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন যে, প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখনো পতিত স্বৈরাচারের দোসররা ওত পেতে বসে আছে এবং তারা সরকারের প্রতিটি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পদে পদে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, তারা সরকারের সব প্রচেষ্টাকে স্থবির করে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেছেন যে, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা সরকারকে ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন এবং সরকারকে সতর্ক করতেই তিনি বারবার বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরছেন। তিনি মনে করেন, সরকারের উচিত এসব অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা।