ফ্যামিলি কার্ড ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার পরিকল্পনা: তারেক রহমান

গুলশানে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তাদের দল ক্ষমতায় এলে জনকল্যাণমূলক নানা সুবিধা একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বর্তমানে সরকারের অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোর মধ্যে কাঙ্ক্ষিত সমন্বয় নেই। ফলে সাধারণ নাগরিকরা এসবের সঠিক সুফল লাভ থেকে বঞ্চিত হন। ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে এই সমস্ত নাগরিক সুবিধা ও কল্যাণমূলক উদ্যোগকে এক ছাতার নিচে এনে সাধারণ মানুষের জন্য সেবা প্রাপ্তি সহজ ও নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা, সামাজিক মূল্যবোধ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান

তারেক রহমান তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, দেশের জন্য যেকোনো উন্নয়নমূলক বা সংস্কারমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হোক না কেন, সর্বাগ্রে দেশের সকল স্তরের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সেই সঙ্গে রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি রোধ করা না গেলে কোনো উদ্যোগই স্থায়ীভাবে সফল হতে পারে না। তিনি মনে করেন, এই মৌলিক সমস্যাগুলো দূর করতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন তরান্বিত হবে এবং অন্যান্য খাতগুলোর স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও স্থায়িত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিরে আসবে।

শিক্ষা খাতের ব্যাপক সংস্কার ও আধুনিকায়ন পরিকল্পনা

শিক্ষা খাতের কাঠামোগত পরিবর্তন ও গুণগত মানের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তিনি উল্লেখ করেন, “শিক্ষা ক্ষেত্রে কেবল দৃশ্যমান ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ বা বড় ভবন গড়ে তোলাই যথেষ্ট নয়, বরং শিক্ষকদের আধুনিক শিক্ষার উপযোগী করে দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।” শিশুদের মানসম্মত ও সঠিক শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ শিক্ষাদান নিশ্চিত করার ওপর তিনি তাগিদ দেন। পড়ালেখাকে ভীতিপ্রদ না করে আনন্দদায়ক ও বিনোদনমূলক শিক্ষার মাধ্যমে উপস্থাপন করতে হবে যাতে শিক্ষার্থীরা আরও বেশি আগ্রহ পায়। এর পাশাপাশি ক্রীড়া চর্চা, সংস্কৃতি ও শিল্পকলাকে শিক্ষার মূল ধারায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করেন, যা তরুণদের অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রবণতা হ্রাস করতে সাহায্য করবে। এই খাত পরিচালনার জন্য একাধিক মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে বিশেষ টিম গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

যানজট নিরসনে নগর পরিকল্পনা ও প্রবাসী কল্যাণ

রাজধানী ঢাকা-র তীব্র যানজট নিরসনে দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে তিনি বলেন, শহরের প্রশাসনিক কেন্দ্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা এবং চাকরির সুযোগ সুবিধা কেবল একটি কেন্দ্রবিন্দুতে সীমিত থাকার কারণে প্রতিনিয়ত যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সংকট সমাধানের উদ্দেশ্যে প্রধান শহরের বাইরে আধুনিক স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা সুনিশ্চিত করা হবে। বর্তমান যাতায়াত ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি জানান, মেট্রোরেল ব্যবস্থা যথেষ্ট ব্যয়বহুল ও বেশি জায়গা দখল করে। এর বিপরীতে মনোরেল তুলনামূলক সাশ্রয়ী, ছোট বগাবিশিষ্ট এবং শহরের গলি ও ছোট সড়কগুলোর সঙ্গে সহজেই সংযুক্ত করা সম্ভব, যা ঢাকার সার্বিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

দেশের প্রবাসী শ্রমিকদের অর্থনৈতিক অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তিনি বলেন, অধিকাংশ তরুণ অদক্ষ অবস্থায় বিদেশে পাড়ি জমানোর ফলে তারা সঠিক কাজের সুযোগ ও ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হন। যুবসমাজকে আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে বিদেশে পাঠানোর জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রবাসীরা যাতে বৈধ উপায়ে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে রেমিট্যান্স পাঠান, সেজন্য তাদের জন্য বিশেষ আর্থিক ও সামাজিক প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা দরকার। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনের শক্তিতেই দেশ পুনর্গঠনের এ পথ সুগম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #শিক্ষা #উন্নয়ন