বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে কূটনৈতিক তৎপরতা

ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। বিরোধীদলীয় নেতার সংসদীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিষদ আলোচনা হয়। বৈঠকে পাকিস্তান হাইকমিশনের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর কামরান দাংগালসহ বিরোধীদলীয় নেতার উচ্চপর্যায়ের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

দ্বিপাক্ষিক সুসম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ যৌথ সহযোগিতার ক্ষেত্র

বৈঠকে পাকিস্তানের হাইকমিশনার উল্লেখ করেন যে, তার দেশ একটি ভবিষ্যতমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান-এর মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও অর্থবহ করতে গভীরভাবে আগ্রহী। তিনি আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে উভয় দেশের সম্পর্ক একটি নতুন ও ইতিবাচক ধারায় অগ্রসর হচ্ছে। ইতিপূর্বেই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক আদান-প্রদান বৃদ্ধির পাশাপাশি সামরিক ও বেসামরিক উভয় পর্যায়ে একাধিক ফলপ্রসূ প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময় সম্পন্ন হয়েছে।

শিক্ষা ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার চিত্র তুলে ধরে হাইকমিশনার জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ শিক্ষাবিদদের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাকিস্তান সফর করেছে। সফরকালে প্রতিনিধিদলটি দেশটির সার্বিক শিক্ষা কাঠামো ও একাডেমিক পরিবেশ পরিদর্শন করে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে গত মাসে রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত শিক্ষা মেলার অভূতপূর্ব সাফল্য সম্পর্কেও বিরোধীদলীয় নেতাকে অবহিত করা হয়।

শিক্ষা স্কলারশিপ, নলেজ করিডোর ও কূটনৈতিক সংলাপ

শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পাকিস্তানের হাইকমিশনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, পাকিস্তান সরকার আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের ৫০০ জন ছাত্রছাত্রীকে উচ্চশিক্ষা স্কলারশিপ প্রদান করবে। এই প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যেই ৭৪ জন বাংলাদেশী শিক্ষার্থী পাকিস্তানে গমন করেছেন এবং তাদের অধ্যয়ন শুরু করেছেন। আগামীতে দুই দেশের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আরও বেশি মেধা ও গবেষণা বিনিময়ের লক্ষ্য নিয়ে যৌথ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে চলমান “নলেজ করিডোর” প্রকল্পটিকে আগামী দিনগুলোতে আরও শক্তিশালী ও সংহত করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

সংসদীয় কূটনীতি জোরদার করার উদ্দেশ্যে হাইকমিশনার দুই দেশের মধ্যে একটি যৌথ সংসদীয় গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব দেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সংসদীয় পর্যায়ে নিয়মিত আলাপ-আলোচনা উভয় দেশের ঐতিহ্যগত ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করবে। আলোচনার একপর্যায়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতি প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক ও ইতিবাচক ভূমিকার জন্য বিরোধীদলীয় নেতা পাকিস্তান সরকারকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সংলাপে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #পাকিস্তান #কূটনীতি #শিক্ষা