মুনাফিক গোষ্ঠী বাংলাদেশ শাসন করতে পারবে না: মামুনুল হক

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-এর আমির মামুনুল হক স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন যে, কোনো মুনাফিক গোষ্ঠী কখনো বাংলাদেশ শাসন করতে পারবে না। স্থানীয় এইচজে সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের এই বিরাট সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ আর কোনো প্রথাগত রাজপরিবারের হাতে নিজেদের ভাগ্য বন্ধক দিতে প্রস্তুত নয়।

রাজনীতিতে দ্বিমুখী নীতি ও কঠোর হুঁশিয়ারি

রাজনীতিতে কতিপয় দলের দ্বিমুখী অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করে মামুনুল হক উল্লেখ করেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল গণভোটের সময় প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বললেও গোপনে গোপনে ‘না’ ভোটের প্রচারণা চালিয়েছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যারা প্রকাশ্যে এক কথা বলে আর গোপনে সম্পূর্ণ ভিন্ন কাজ করে, তাদেরকে মুনাফিক ছাড়া আর কী বলা যেতে পারে?” তিনি অত্যন্ত শক্ত কণ্ঠে জোর দিয়ে বলেন, বাংলার সচেতন জনগণ এই ধরনের প্রতারক ও মুনাফিকদের রাজনীতি আর কখনো মেনে নেবে না।

নিজের দলের সম্ভাব্য পরাজয় আঁচ করতে পেরে একটি গোষ্ঠী ভীতু ও কাপুরুষের মতো নারীদের ওপর চড়াও হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন খেলাফত মজলিসের এই শীর্ষ নেতা। নারী সমাজের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়ে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, “কেউ যদি আমার মা কিংবা বোনের দিকে কুকাতরে তাকায় অথবা মেয়েদের হিজাব নিয়ে টানাটানি করার দুঃসাহস দেখায়, তবে আপনারা তাদের হাত ভেঙে দেবেন এবং চোখ উপড়ে ফেলবেন।” তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, নারীদের ওপর পুনরায় কোনো আঘাত আসলে দেশে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, সেই আগুন নেভানোর মতো কেউ থাকবে না।

ভোটের অধিকার রক্ষা ও ভোটচোরদের প্রতিরোধের আহ্বান

নির্বাচন ও ভোটাধিকার প্রসঙ্গ টেনে মামুনুল হক উপস্থিত সাধারণ ভোটারদের সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘ভোট প্রদান ও পাহারা’ নিশ্চিত করার দায়িত্ব জনগণের নিজেদেরই নিতে হবে। তিনি বলেন, “আপনারা কেবল নিজে ভোট দিয়েই দায়িত্ব শেষ করবেন না, বরং কেন্দ্র পাহারাদারি করবেন যাতে কোনো ভোটচোর এসে জনগণের আমানত চুরি করতে না পারে।” যদি কোনো ভোটচোর চুরি করার উদ্দেশ্যে আসে, তবে সাধারণ মানুষকে একজোট হয়ে তাদেরকে কঠোরভাবে প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষের বিশাল উপস্থিতিতে সভাটি অত্যন্ত প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সেখানে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও নীতি-নৈতিকতা রক্ষায় আলেম-ওলামাদের করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সাধারণ ভোটারদের অধিকার রক্ষায় চূড়ান্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয় এই সমাবেশ থেকে।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন #কুমিল্লা