হলফনামায় নাহিদ ইসলামের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিবরণ: নেই কোনো বাড়ি, গাড়ি বা জমি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের নির্বাচনী হলফনামা দাখিল করেছেন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি দেশের রাজধানী ঢাকা শহরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১১ আসন থেকে সরাসরি অংশগ্রহণ করবেন। এই আসনটি প্রধানত রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা এবং হাতিরঝিল এলাকার আংশিক অংশ নিয়ে গঠিত হয়েছে। সম্প্রতি দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টার দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করে পদত্যাগ করার পর তিনি বর্তমানে পেশা হিসেবে পরামর্শক ও শিক্ষকতাকে বেছে নিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তার হলফনামায় উল্লিখিত তথ্যাদি থেকে জানা যায়, তরুণ এই রাজনৈতিক নেতার নামে নিজস্ব কোনো বাড়ি, গাড়ি, আবাসন ফ্ল্যাট, কিংবা কৃষি ও অকৃষি জমি নেই।
পেশাগত আয়, আয়কর প্রদান ও ব্যাংক ঋণের চিত্র
হলফনামার আনুষ্ঠানিক তথ্যানুযায়ী, নাহিদ ইসলাম পেশা হিসেবে পরামর্শক ও শিক্ষকতা উল্লেখ করেছেন। এই পেশা দুটি থেকে তার বর্তমান অর্জিত বার্ষিক মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ টাকা। পূর্ববর্তী অর্থবছরে তার মোট বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ছিল ১৩ লাখ ৫ হাজার ১৫৮ টাকা, যার ওপর ভিত্তি করে তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে সর্বমোট ১ লাখ ১৩ হাজার ২৭৪ টাকা আয়কর হিসেবে প্রদান করেছেন। সব ধরনের অস্থাবর সম্পত্তি মিলিয়ে এনসিপি প্রধানের সর্বমোট সম্পদের আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩২ লাখ ১৬ হাজার ১২২ টাকা। তবে সম্পদের পাশাপাশি ব্যাংক খাতে তার নামে সাড়ে তিন লাখ টাকার একটি ঋণ দায় রয়েছে বলেও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিলকৃত নথিতে উল্লেখ করেছেন।
অস্থাবর সম্পত্তির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বর্তমানে নাহিদ ইসলামের কাছে ব্যক্তিগত নগদ অর্থ রয়েছে ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া তার সহধর্মিণীর নিকট নগদ গচ্ছিত রয়েছে ২ লাখ টাকা। বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে তার অর্জিত আমানতের পরিমাণ ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৩৬৩ টাকা ৫৭ পয়সা। স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান অলংকারের ক্ষেত্রে তার নিজস্ব ব্যবহারের পৌনে আট লাখ টাকা মূল্যের গহনা এবং স্ত্রীর নামে ১০ লাখ টাকা মূল্যমানের অলংকার রয়েছে। দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য তার এক লাখ টাকা মূল্যের প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী এবং এক লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবপত্র রয়েছে। একইসাথে তার নামে কোনো প্রকার আইনি মামলা, ফৌজদারি দায় কিংবা কোনো নিবন্ধিত আগ্নেয়াস্ত্র নেই।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তফসিল ও ভোটগ্রহণের তারিখ
নির্বাচন কমিশনের সময়সূচি ও কার্যপরিধি অনুযায়ী, প্রার্থীদের দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ৩০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। রিটার্নিং কর্মকর্তার গৃহীত যেকোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে আপিল আবেদন দায়ের করতে পারবেন। আপিল নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ জানুয়ারি।
পরদিন ২১ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং প্রসেস অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হবে, যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। এরপর নির্ধারিত দিনে ভোটারগণ তাদের বহুল প্রতীক্ষিত ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন #জাতীয়_সংসদ