আওয়ামী লীগ বিএনপিকে হাইজ্যাক করেছে: এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ
চট্টগ্রামে আয়োজিত এক সুধী ও যোগদান অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেছেন যে, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগ দ্বারা পুরোপুরি হাইজ্যাক বা নিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে। নতুন রাজনৈতিক কর্মীদের দলে স্বাগত জানানোর সময় তিনি এই মন্তব্য করেন এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
চট্টগ্রামের আন্দোলন এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
হাসনাত আবদুল্লাহ তার বক্তব্যে চট্টগ্রামের আন্দোলনের বিশেষ ভূমিকা স্মরণ করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সারা দেশে যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রতিকূল পরিবেশ বিরাজ করছিল, তখনো বন্দরনগরীর আন্দোলনকারীরা তাদের রাজপথের সংগ্রাম ও বসন্ত ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। যখনই ঢাকায় কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন স্থবির হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে, ঠিক তখনই চট্টগ্রাম থেকে নতুন প্রেরণা ও গতি এসেছে।
তবে বর্তমান সরকারের সংস্কারবিরোধী ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আবু সাঈদ, মুগ্ধ এবং চট্টগ্রামের বীর সন্তান ওয়াসিম যে স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ ও সংস্কারের স্বপ্নের জন্য নিজেদের তাজা রক্ত বিলিয়ে দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি আজ কেন সেই ঐতিহাসিক আকাঙ্ক্ষা ও রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে?” তিনি বলেন, দলটি তার নিজস্ব সত্ত্বা হারিয়ে অন্য দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।
বঞ্চিত নেতাকর্মী ও নারী নেতৃত্বের মূল্যায়নের আহ্বান
দীর্ঘ ১৭ বছরের ত্যাগী কর্মীদের অবমূল্যায়নের চিত্র তুলে ধরে এনসিপি নেতা বলেন, যারা নিজেদের অর্থ, শ্রম, জেল-জুলুম এবং চরম নির্যাতন সহ্য করে এতদিন একটি দলকে টিকিয়ে রেখেছিলেন, আজ তারা সরকারে এসে চূড়ান্তভাবে বঞ্চিত ও ব্যথিত হয়েছেন। ত্যাগী নেতাকর্মীদের বিশাল একটি অংশ এখন বর্তমান নীতিতে হতাশ হয়ে তাদের নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যোগ দিতে আগ্রহী হচ্ছেন।
তিনি দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, “ঘরে ঘরে গিয়ে দেশের মানুষের কাছে নীরব বিপ্লবের বার্তা পৌঁছে দিন এবং প্রকৃত দেশপ্রেমিক ও সংস্কারপন্থিদের এনসিপির পতাকাতলে একতাবদ্ধ করুন।”
একই সাথে জুলাই আন্দোলনে নারীদের অনন্য ও অসামান্য বীরত্বের প্রশংসা করে তিনি আফসোস প্রকাশ করেন যে, পরবর্তী সময়ে তাদের রাজনৈতিকভাবে সঠিক মূল্যায়ন ও সংগঠিত করা সম্ভব হয়নি। তাই তিনি ভবিষ্যতে নারী নেতৃত্বকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার জোর আহ্বান জানান।
কাঠামোগত পরিবর্তনের কঠোর অঙ্গীকার
বক্তব্যের শেষভাগে তিনি এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের একটি ঐতিহাসিক ও দূরদর্শী প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে বলেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে যদি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার মৌলিক ও কাঠামোগত কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব না হয়, তবে নাহিদ ইসলাম চিরতরে রাজনীতি থেকে বিদায় নেবেন। তারা কেবল ক্ষমতার জন্য নয়, বরং টেকসই কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য রাজপথে কাজ করে যাবেন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #চট্টগ্রাম #এনসিপি #সংস্কার