বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টি (বিএনপি)-কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন যে, তারা প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশে সংস্কারের কথা বললেও, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে বসলে ভিন্ন মনোভাব দেখায় এবং কোনো কিছু মানতে চায় না। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের জনগণ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে কার্যকর সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। অধিকাংশ রাজনৈতিক দল, যার মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও রয়েছে, মনে করে এই সংস্কার সবার জন্য কল্যাণকর। যারা সংস্কার চান না, তাদের নিশ্চয়ই কোনো অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শনিবার, ১৯ জুলাই বিকেলে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক জাতীয় সমাবেশে ডা. তাহের এসব কথা বলেন। জুলাই সনদ ও সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকগুলোতে জামায়াতের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তার বক্তব্যে তিনি ঐকমত্য কমিশনের ভেতরের ও বাইরের পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
সংস্কার ও ঐকমত্য কমিশন
ডা. তাহের তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন যে, বিএনপি বাইরে সভা-সমাবেশ করে সংস্কারের পক্ষে জোরালো বক্তব্য দিলেও, ঐকমত্য কমিশনের মিটিংয়ে বসলে তারা কিছুই মানতে চায় না এমন ভাব দেখায়, যা তাদের দ্বৈত নীতি প্রকাশ করে। তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সংস্কারের পরেই নির্বাচনের পক্ষে। জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে যে, এই সংস্কার দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা পালন করবে। সংস্কারের বিরোধিতা করা মানে জনগণের প্রত্যাশার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া।
পিআর পদ্ধতি ও নির্বাচন
জাতীয় নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি চালু করার প্রসঙ্গে আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, এই পদ্ধতিতে টাকা দিয়ে ভোট কেনার সুযোগ থাকে না, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। ফলে অসৎ উদ্দেশ্য পূরণ সম্ভব হয় না। তিনি আরও বলেন, পিআর পদ্ধতিতে স্বচ্ছ নির্বাচনের বিরোধিতা করা মানে জাতির প্রত্যাশা সম্পর্কে সচেতন না হওয়া।
আপনারা বলছেন পার্লামেন্টে বসে সংস্কার করবেন। কেন এমনটা মনে করছেন? আপনারা মনে করছেন আগামী নির্বাচনে আপনারা জিতবেন, নাকি দখল করবেন?
তিনি বলেন, জনগণ আগামী নির্বাচনে কোনো দখলবাজি করতে দেবে না।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদাবাজবিরোধীরাই জিতবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী চায় আগামী নির্বাচনে জনগণের জয় হোক। জনগণ যাদের ভোট দেবে, তারাই নির্বাচিত হবে। সোহরাওয়ার্দীর বিশাল এই সমাবেশ থেকে তিনি প্রশ্ন করেন, কারা জিতবে সেই বার্তা কি স্পষ্ট পাওয়া যাচ্ছে না? তিনি বিশ্বাস করেন, আগামীতে বাংলাদেশপন্থিরাই জিতবে, চাঁদাবাজবিরোধীরাই জিতবে এবং সুশাসনের পক্ষের শক্তির বিজয় হবে।
জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে জামায়াত
জামায়াত কোনো জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসবাদ পছন্দ করে না জানিয়ে দলটির নায়েবে আমির বলেন, জামায়াত কোনো সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না। ইসলামেও জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই। বাংলাদেশেও কোনো জঙ্গিবাদ আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না, তা ধর্মীয় বা রাজনৈতিক জঙ্গিবাদ হোক। জামায়াত জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে, সংগ্রাম করবে এবং প্রয়োজনে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। এই অবস্থান দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় জামায়াতের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।